সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
মুহাম্মাদ তাওহিদ গাজী

মোট এলার্ম : 158 টি

মুহাম্মাদ তাওহিদ গাজী

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক :

» আমার টুইটার পাতা :


স্পন্সরড এলার্ম



সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

কে যেন বলেছিলেন কথাটা। শিশুরা হচ্ছে কুমারের হাঁড়ি-কুড়ি তৈরির কাদা-মাটির মতো। যেভাবে গড়তে চাইবেন, সেভাবেই তারা তৈরি হবে। ছোটবেলায় যে শিক্ষা, যে আদর্শকে তাদের দৈনন্দিন অভ্যোসে পরিণত করবেন, সেই অভ্যেস, সেই আদর্শ নিয়েই তারা বড় হবে। শিশুদের প্রাথমিক অভ্যেস সাধারণত গড়ে ওঠে বাবা-মা’কে অনুসরণ করে, সেক্ষেত্রে বাবা-মা’ই হচ্ছে শিশুর প্রথম শিক্ষা। বাবা-মা’রা শিশুকে যেভাবে, যে আঙ্গিকে গড়ে তুলবেন, শিশু সাধারণসত সে আঙ্গিকেই গড়ে ওঠে। তাই সন্তান জš§ দিয়েই বাবা-মায়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার নয়, তাঁকে সঠিক আদর্শে গড়ে তোলার ব্যাপারটিও বাবা-মা’য়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

this-space-picture-changes-our-understanding-of-how-black-holes-form

আমরা প্রায়ই আরেকজনের সঙ্গে পরীক্ষার রেজাল্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে তুলনা করে ছেলেমেয়েদের হতাশ করি। যার কারণে তারা ভবিষ্যতে ভালো রেজাল্ট ও অন্য ভালো কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই অবশ্যই সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করা উচিত, এতে করে লেখাপড়া বা খেলাধুলা যে বিষয়ে প্রশংসা করা হবে সেই বিষয়ে পারফরম্যান্স দিগুণ হবে। অনেক বাবা-মারাই মনে করেন স্কুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ। স্কুলে ঢুকিয়ে দিলেই তারা মানুষ হয়ে বের হয়ে আসবে। আজকাল পেপার পত্রিকা উল্টালে দেখতে পায় কিছু স্কুলপড়ুয়াদের কীর্তি। কোন ছাত্রছাত্রী নেশা করছে, কেউ না জেনেশুনে যে কোনো দলের মিছিলে এক-দুশ’ টাকার জন্য স্লোগান দিচ্ছে, কেউবা ইভটিজিং করছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে কার সঙ্গে মিশছে, অবসরে কি করছে তার বন্ধু বান্ধব কেমন এসব খোঁজ-খবরসহ তার পড়াশোনার সুবিধা-অসুবিধার দিকে বাবা-মাকে নজর দিতে হবে। একটা গাছ লাগানোর পর তাকে কি ফেলে রাখা যায়। তার যতœ নিতে হয়, পানি ঢালতে হয়, বড় করতে হয়, না হলে গাছটি শুকিয়ে মরার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি ছেলেমেয়েদের যতœ না নিলে তারাও অকালে ঝরে যেতে পারে। চারার পরিচর্যার চেয়ে হাজারগুণ যতœ ও গাইড দিয়ে ছেলেমেয়ে মানুষ করতে হয়। এমনকি লেখাপড়ায় কি সমস্যা হচ্ছে, কোন সাবজেক্টে সে খারাপ, কোনটাতে ভালো করছে এসব খোঁজ-খবর রাখাটাও জরুরি। এ সময়ই সন্তানের মনোভাব হিসাবে কষেই বাবা মার সন্তানদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে পারেন। এ সময়ের উদাসীনতা ছেলেমেয়েদের ভুল পথে নিতে পারে, যে ভুলের দায়িদায়িত্ব বাবামার ওপরই বর্তায়। গল্প করার ছলে সন্তানের খোঁজ-খবর নিলে তাকে সময় দিলে, পাশে থাকলে সে বাবা মাকে বন্ধু মনে করে। আর বাবা-মা বন্ধু হলে সন্তানরা তাদের সঙ্গে স্কুল বন্ধুদের সব বিষয় শেয়ার করে। যার ফলে তাদের গতিবিধি বাবা মা সহজে জানতে পারে। স্কুলে পড়াশোনাসহ সন্তানের অন্যান্য কাজকর্মেরও খোঁজ-খবর রাখতে হবে। অভিভাবকদেরও উচিত সপ্তাহে অন্তত একবার স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তার ছেলেমেয়েদের খোঁজ-খবর রাখা। বেছে নিন এমন স্কুল যেখানে আপনার ছেলে বা মেয়ে প্রকৃত মানুষ হতে পারবে। ভালো গাইড দেয়ার মতো স্কুলের সংখ্যা বর্তমানে খুবই কম। তবে একটু খোঁজ-খবর রাখলে ভালো স্কুলের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে শুধু রেজাল্ট বা ভবন দেখে আপনার ছেলে মেয়েদের ভর্তি করালে ভুল করবেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি আদর্শ ও নৈতিক চরিত্র গঠনের মনোভাবসম্পন্ন স্কুলগুলোই আপনার সন্তানকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তুলতে পারে

→ আপনাকে সর্বপ্রথম একটা জিনিস প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খেয়াল করতে হবে আপনার সন্তানটি বাহিরে কার সাথে মিশছে, তার বন্ধু বান্ধব কারা। কোন খারাফ ছেলের সাথে কোন ভাবে মিশতে দেওয়া যাবে না।
→ আপনাকে সব সময় তার বাহিরের দিক নির্দেশনা দিয়ে যেতে হবে।
→ সন্তানের ক্লাসের উপস্থিতির নিয়মিত খবর নিন। সে কি ক্লাসে উপস্থিত হচ্ছে নিয়মিত।
→ আপনার সন্তানটিকে নিয়ে ছুটির দিনে ঘুরতে যান কোথাও। দেখন আপনার সন্তানের মানসিকতা প্রেশ মনে হচ্ছে।
→ সব সময় আপনার সন্তানের মানসিকতার খোঁজ নিতে থাকুন। তার থেকে নয় তার দেখে বুজে নিতে হবে আপনাকে তার মানসিকতা কতটুকু ঠিক আছে। তার মানসিকতা নিয়ে যখনি আপনার সন্দেহ হবে তখনি আপনাকে তার মানসিকতা ঠিক করে নিতে হবে। তার সাথে খোলা মেলা আলাপ করতে পারেন।
→ সন্তানকে তার ন্যায্য অধিকার কিন্তু দিতে হবে।
→ আপনার সন্তানকে সব সময় সপ্ন দেখাতে বুলবেন না। এরকম- একাজ টা করো, একাজ টা তোমার অনেক ভালো হবে। একাজ টা করোনা এটা করলে অনেক ক্ষতি হবে। এরকমও বলতে পারেনঃ তুমি SSC পাশ করলে একটা মাল্টিমিডিয়া মোবাইল এবং একটি কম্পিউটার বাজেট, আর যদি না করো তা হলে কিছু পাবে না। দেখেন আপনার সন্তান কিভাবে পড়ালেখা আগ্রহি হয়ে উঠতেছে।
আশাকরি বুজতে পারছেন ব্যপারটা। আমি এখানে কিছু কিছু মুল দায়িত্ব গুলো তুলে ধরলাম, এরকম আরো অনেক দায়িত্ব আছে সেগুলো মা বাবা দুজন কে সঠিক ভাবে পালন করতে পারলে মনে আপনার সন্তানটি একদিন সফল হবে। এ দুটি কথা আপনি চিরন্তন মনে রাখুন-
‘‘শারীরিক শাসন করে কখনো মানুষ করা যায় না’’

টেলিভিশন রুমে, ড্রয়িং রুমে যেখানে পড়াশোনার বিঘœ ঘটে এমন পরিবেশে লেখাপড়া এড়ানো উচিত। আবার বেশি ভেতরে যেখানে আলো-বাতাস নেই এমন পরিবেশে লেখাপড়া স্বাস্ব্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই পড়াশোনার পরিবেশে যেন যথেষ্ট আলোবাতাস থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। পড়াশোনার সময় মোবাইল ব্যবহার যথাসম্ভব এড়ানো ভালো, তা হতে পারে আপনার মোবাইল অথবা সন্তানের। বিকালে খেলার সময়ে আপনার সন্তানের স্বাধীনতা কেড়ে নেবেন না। মনের আনন্দে খেলাধুলা করুক বা বিনোদনে কাটাক ঘণ্টা দুঘণ্টা। আর লেখাপড়ার জন্য বেছে দিন বিকাল বাদে অন্য যে কোনো সময়। আর সব সময় শুধু লেখাপড়া আর লেখাপড়া করতে বললে তাদের মানসিক চাপ বাড়ে। এ চাপ ছেলেমেয়েদের জন্য ক্ষতিকর। মানসিক চাপে লেখাপড়ার আগ্রহ কমে যায়। তাই তাদের মানসিক কষ্ট না দিয়ে আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করার সুযোগ করে দিন। এতে ছেলেমেয়েরা পড়া সহজে মুখস্থ করতে পারে ও লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মাকে তাদের অবসরের কথাটা মাথায় রাখা উচিত। সম্ভব হলে একটু ঘুম বা রিলাক্স হওয়ার সুযোগ দিন যাতে ঠা-া মাথায় পড়াশোনা করতে পারে।

(1971)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ অন্যান্য

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon