ইয়াহু ॥ Do you Yahoo | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
শাওন রহমান

মোট এলার্ম : 112 টি

শাওন রহমান

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক : http://facebook.com/shawon.rahman121

» আমার টুইটার পাতা : https://twitter.com/shawon_786


স্পন্সরড এলার্ম



ইয়াহু ॥ Do you Yahoo
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

সানিভেল, ক্যালিফোর্নিয়া। ইন্টারনেট বিশ্বকে রক্ত বর্ণে রাঙিয়ে রাখা ইয়াহুর হেডকোয়ার্টার। ৯০ দশকের মাঝামাঝিতে যাত্রা শুরু করা ইয়াহু এখনও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। সাম্প্রতিক সময়ে আপনার মনে হবে গুগল ও ফেসবুকের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে ইয়াহু। হ্যাঁ, পিছিয়ে পড়েছে, কিন্তু লক্ষ থেকে বিচ্যুত হয়নি একটুও। ব্যবহারকারীর অনলাইন লাইফের কেন্দ্রবিন্দু হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই জায়ান্ট।

ইয়াহু মূলত একটি ওয়েব পোর্টাল, যেখানে সাম্প্রতিক খবর, বিনোদন, খেলাধুলা, প্রযুক্তি ইত্যাদি সবকিছুর সার্বক্ষণিক আপডেট পাওয়া যায়। ইয়াহুর রয়েছে আরও বেশ কিছু সার্ভিস যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ইমেইল, ম্যাপস, ফাইন্যান্স, গ্রুপস এবং ম্যাসেঞ্জার। তাদের ইমেইল সেবা ও ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং এর জন্য রয়েছে স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন।

 

jerryযারা ৯০ দশকে কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন তারা অনেকেই ইয়াহু ব্যবহার করেছেন। তখন কিন্তু গুগল বলতে কিছু ছিল না। সময়টা ছিল জানুয়ারী, ১৯৯৪ সাল, ওয়েব সাইটের নাম ছিল “জেরি’স গাইড টু দ্যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব”। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ২ ছাত্র জেরি ইয়াং এবং ডেভিড ফিলো তৈরি করেন এই ওয়েব সাইট। তখন সাইটটি ছিল অন্যান্য ওয়েবসাইটের ডিরেক্টরি। সে বছরেরই মার্চ মাসে তারা ওয়েব সাইটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন “ইয়াহু”। এবং ১৯৯৫ সালের ১৮ জানুয়ারী রেজিস্ট্রার করা হয় yahoo.com ডোমেইন।

বাংলাদেশে যারা পুরনো ইয়াহু ব্যবহারকারী রয়েছেন তারা বেশিরভাগই ব্যবহার করেছেন ৯০ দশকের একদম শেষ ভাগে এবং ২০০০ সালের পর। যেই জেনারেশন ইয়াহু ব্যবহার করেছেন তাদের অনেকে এখনও ইয়াহুর সর্ভিস ব্যবহার করছেন। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার। আমাদের অনেকেরই আলাদা একটা আবেগ কাজ করে এই ম্যাসেঞ্জারটির জন্য। কমবেশী আমরা সবাই ব্যবহার করেছি এই ম্যাসেঞ্জার। সে সময় এর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মাইক্রোসফটের এমএসএন ম্যাসেঞ্জার। তখনকার সময় ব্যবহারকারীরা তর্ক বিতর্ক করতো এই দুটো ম্যাসেঞ্জার নিয়ে।

 

yahooআপনি কি জানেন “ইয়াহু” নামটি হুট করেই দেয়া হয়নি। একটি একটি বড় নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ? Yahoo = Yet Another Hierarchical Officious Oracle. এখানে Hierarchical দিয়ে বোঝানে হয়েছে ইয়াহুর ডেটাবেস সাবক্যাটেগরির লেয়ারে কীভাবে বিন্যস্ত রয়েছে সেটা। এবং “Oracle” দিয়ে বোঝানো হয়েছে “সত্য এবং জ্ঞানের উৎস”। অবশ্য ফিলো এবং ইয়াং দাবী করে তারা এই নাম মজা করেই দিয়েছিলেন, তখনকার সময়ে ফিলো’র কলেজ বান্ধবী তাকে ইয়াহু নামে সম্বোধন করতো।

২০০০ সালের দিকে, গুগলের আবির্ভাবের কয়ের বছর পর তাদের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করা শুরু করে ইয়াহু। এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত সেটা অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে ইয়াহু তাদের নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন ডেভেলপ করে এবং ইমপ্লিমেন্ট করে। এবং গুগলের জিমেইলের জবাব হিসেবে তারা তাদের ইমেইল সার্ভিসে ব্যবহারকারীকে আনলিমিটেড স্টোরেজ অফার করে। মূলত গুগলের আবির্ভাবের পর থেকেই আস্তে আস্তে পিছিয়ে যেতে থাকে ইয়াহু। তবে তখনও ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সফট্ওয়্যার ছিল।

 

yahooআপনি কি জানেন? মাইক্রোসফটের মত কোম্পানি যখন দেখেছিল ইয়াহু অপ্রতিরোধ্য (মূলত ইমেইল সেবা এবং ম্যাসেঞ্জারের কারনে) তখন তারা ইয়াহুকে নিলামে কিনে নেয়ার ঘোষনা দেয়। প্রস্তাবিত মূল্য ছিল ৪৪.৬ বিলিয়ন! ডলার। কিন্তু ইয়াহু সেটা নাকচ করে দেয়। সময়টা ছিল ২০০৮ সাল। তার তিন বছর পর শুধু ইয়াহুর মার্কেট ক্যাপিটাল দাড়ায় ২২.২৪ বিলিয়ন ডলার।

২০১২ সালে এসে ইয়াহু অনেক খারাপ সময়ের সম্মুখীন হয়। এপ্রিলের ৪ তারিখ তারা ২০০০ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের ঘোষনা দেয়। এই ছাঁটাইয়ের ফলে বাৎসরিক ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার বাঁচাতে পারবে বলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে সময় ইয়াহুর সিইও হিসেবে ছিলেন স্কট থম্পসন। তার ২ মাস পরেই থম্পসন কে ইয়াহুর সিইও পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছিল।

 

mayerতারপর নতুনভাবে ইয়াহুকে গড়তে ও লক্ষ অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যিনি প্রধান ভূমিকা পালন করছেন তিনি ম্যারিসা মেয়ার। জুলাইয়ের ১৬ তারিখ, ২০১২ তে তিনি ইয়াহুর সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। এর আগে বহুদিন তিনি গুগলে কাজ করেছেন এবং গুগলের প্রধান মুখপাত্র ছিলেন।

এর পরেই ঘটতে থাকে নানা ইয়াহুর ধরনের কার্যক্রম। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৩ সালে ১.১ বিলিয়ন ডলারে ব্লগিং সাইট টাম্বলার অধিগ্রহণ।

আপনারা কি জানেন, জনপ্রিয় ইমেজ ও ভিডিও হোস্টিং সার্ভিস ফ্লিকারের মালিক ইয়াহু ? ২০০৪ সালে আত্মপ্রকাশ করার পর ২০০৫ সালে ইয়াহু কিনে নেয় ফ্লিকার কে। বিনিময় মূল্য ছিল ৩৫ মিলিয়ন ডলার।

 

mayerকেমন আছে ইয়াহু? প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ। তারা ভাল আছে, কিন্তু অন্যদের তুলনায় ভাল নেই সেটা পরিষ্কার। ইয়াহু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উপরে উঠার জন্য। বর্তমানে তাদের বাৎসরিক রেভিনিউ ৪.৬৮ বিলিয়ন ডলার। ইয়াহুর সর্বমোট সম্পদের পরিমান ১৬.৮০ বিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে ২০১৩ সালে সাইট ভিজিটের দিক থেকে ইয়াহু টপকে যায় গুগলকে। ২০১৩ এর শেষ নাগাদ ইয়াহুর মাসিক অ্যাক্টিভ ব্যবহারকারী ছিল ৮০০ মিলিয়ন। অন্য কোন দেশে না হোক, খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াহু এখনও অন্যতম জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। হয়তো আবেগ, হয়তো সার্ভিস, হয়তো বিশ্বাস থেকে ব্যবহারকারীরা এখনও থেকে গেছেন ইয়াহুর সাথে। এবং ম্যারিসা মেয়ার হতাশ করছেন না কাউকেই।

  (950)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ আইটি নিউজ

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon