যাদের হাতের স্পর্শে বর্তমান টেকনোলজিঃ বব কান এবং ভিন্ট সার্ফ | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
তাহমিদ হাসান

মোট এলার্ম : 279 টি

তাহমিদ হাসান
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা,,, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,,, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,,, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া,,, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। !!!!!!!!! তাই টেকএলার্মবিডিতে এসেছি জানার জন্য।

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট : http://www.graphicalarm.com

» আমার ফেসবুক : www.facebook.com/tahmid.hasan3

» আমার টুইটার পাতা : www.twitter.com/tahmid1993


স্পন্সরড এলার্ম



যাদের হাতের স্পর্শে বর্তমান টেকনোলজিঃ বব কান এবং ভিন্ট সার্ফ
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ। ইন্টারনেট ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব প্রায় অচল। স্বল্প সময়ে খুব সহজেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করা সম্ভব বলেই সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট এমন একটি গ্লোবাল সিস্টেম যার মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক একটি আরেকটির সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে ইন্টারনেট প্রোটোকল স্যুইট (TCP/IP) ব্যবহারের মাধ্যমে। তারবিহীন অপটিক্যাল নেটওয়ার্কিং এই টেকনোলজির মাধ্যমে ব্যাক্তিগত, সামাজিক বা সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃতভাবে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যাপক পরিসরে তথ্য বহন করতে সক্ষম। এছাড়াও ইন্টারনেট বিভিন্ন সার্ভিস প্রদান করে যেমন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ইন্টারলিঙ্কড হাইপারটেক্সড ডকুমেন্ট, ই-মেইল সাপোর্ট করার জন্য ইনফ্রাসট্রাকচার এবং পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক।

ব্যাপক জনপ্রিয় গ্লোবাল সিস্টেম ইন্টারনেট যাত্রা শুরু করে বব কান এবং ভিন্ট সার্ফের হাত ধরে। রবার্ট এলিয়ট বব কান এবং ভিন্ট সার্ফ দুজনই আমেরিকার কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট। কান জন্মগ্রহণ করেন নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। তিনি ১৯৬০ সালে সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক থেকে ব্যচেলর অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৬২ এবং ১৯৬৪ সালে তিনি এম.এ এবং পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে। অপরদিকে সার্ফ জন্মগ্রহণ করেন নিউ হেভেনে। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যচেলর অফ সাইন্স ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস কর্পোরেশনে (আইবিএম) ২ বছর সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ভিন্ট সার্ফ তার গ্রেজুয়েশনের সময় প্রফেসর লিওনার্ড ক্লেইনরকের ডাটা প্যাকেট নেটওয়ার্কিং গ্রুপে কাজ করেন। সেখানে তিনি আরপানেটে হোস্ট টু হোস্ট প্রোটোকলে অবদান রাখেন। সেখান থেকে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালফোর্নিয়াতে (ইউসিএলএ) যোগ দেন। সেখানে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোফেসর হিসেবে কাজ করেন।

১৯৭২ সালে বব কান ইনফরমেশন প্রোসেসিং টেকনিকস অফিসে কাজ শুরু করেন। সেখানে একটি ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার কমিউনিকেশন কনফারেন্সে তিনি ২০টি ভিন্ন কম্পিউটার কানেক্ট করে সর্বপ্রথম আরপানেট (ARPANET) প্রদর্শন করেন এবং প্রমাণ করে দেন প্যাকেট সুইচিং একটি বাস্তব টেকনোলজি। এরপরপরই তিনি এই স্যাটেলাইট প্যাকেট নেটওয়ার্ক প্রজেক্টের উপর কাজ শুরু করেন। সে সময় তিনি কিছু প্রাথমিক ধারBf প্রকাশ করেন যা পরবর্তীতে ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল (TCP) হিসেবে উদ্ভাবন হয়। এটি আরপানেটে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক প্রোটোকল (NCP) এর বদলি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এরপরই বব কান ওপেন-আর্কিটেকচার নেটওয়ার্কিং-এ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন যার মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবী জুড়ে কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এই লক্ষ্য নিয়ে করা TCP এর ডিজাইনটি নিম্নরূপঃ

  • সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের ছোট ছোট সাব-সেকশনগুলো একে অপরের সাথে স্পেশালাইজড কম্পিউটারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে।
  • নেটওয়ার্কের কোন অংশই সামান্যতম অকার্যকর থাকবে না আবার কোন অংশই সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
  • নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া প্রত্যেকটি ইনফরমেশনের জন্য একটি সিকোয়েন্স নাম্বার থাকবে। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যের কম্পিউটারে ইনফরমেশন গিয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সাথে যদি কোন ডাটা না গিয়ে থাকে তাও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
  • যে কম্পিউটার থেকে ডাটা পাঠানো হবে তা অন্য কম্পিউটারে গিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে গ্রাহক কম্পিউটারের কাছ থেকে স্পেশাল প্যাকেট গ্রহণের মাধ্যমে। যার নাম ছিল অ্যাকনলেজমেন্ট (ACK)। প্রতিটি অ্যাকনলেজমেন্ট প্রতিটি নির্দিষ্ট ডাটার জন্যই।
  • একটি কম্পিউটার থেকে পাঠানো ডাটার কিছু অংশ যদি হারিয়ে যায় তাহলে তা টাইমআউটের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে এবং পুনরায় প্রেরণ করা হবে।
  • নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠানো প্রত্যেকটি ইনফরমেশন মূল প্রেরক দ্বারা নির্ণীত হবে এবং গ্রাহকের দ্বারা চেক করা হবে। এর মাধ্যমে আদান প্রদানের মাঝে কোন ধরনের ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব হবে।

১৯৭৩ সালে ভিন্ট সার্ফ, বব কানের এই প্রজেক্টে যোগ দেন। তারা দুজন একত্রে (TCP) এর প্রথম সংস্করণ সম্পূর্ণ করেন। এটি ইন্টারনেটের জন্য যুগান্তরকারী উদ্ভাবন ছিল। পরবর্তীতে তাদের তৈরি সংস্করণটিকে দুইটি লেয়ারে পৃথক করা হয়। অন্যটি হচ্ছে ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP)। দুটি প্রোটোকল একত্রে TCP/IP হিসেবে প্রচলিত হয় এবং এটিই বর্তমান ইন্টারনেটের ভিত্তি। পরবর্তীতে অনেক সায়েন্টিস্টের মিলিত কাজের ফলাফল আজকের ইন্টারনেট। ১৯৯২ সালে বব কান এবং ভিন্ট সার্ফ ইন্টারনেট সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন ইন্টারনেটকে আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যে। বর্তমান সময়ে আমরা যেই ইন্টারনেট ব্যবহার করছি তাতে বব কান এবং ভিন্ট সার্ফের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমেরিকায় তাদের সম্মান দেয়া হয়েছে “দি ফাদারস অফ দি ইন্টারনেট” নামে অভিহিত করে। তারা একত্রে সর্বপ্রথম ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল (TCP) এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP) উদ্ভাবন করেন। যা ইন্টারনেটে যোগাযোগের মৌলিক প্রোটোকল। তারা একত্রে ২০০৪ সালে টিউরিং অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৭ সালে ন্যাশনাল মেডেল অফ টেকনোলজি, ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, ন্যাশনাল একাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর মেম্বারশিপ অর্জন করেন।

সূত্রঃ প্রিয় ডট কম (398)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ আইটি নিউজ

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon