ডিজাইনে কালারের ব্যবহার :: [ পর্ব ৫ ] :: (How To Use Color in Design – [ Part 05] | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
তাহমিদ হাসান

মোট এলার্ম : 279 টি

তাহমিদ হাসান
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা,,, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,,, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,,, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া,,, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। !!!!!!!!! তাই টেকএলার্মবিডিতে এসেছি জানার জন্য।

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট : http://www.graphicalarm.com

» আমার ফেসবুক : www.facebook.com/tahmid.hasan3

» আমার টুইটার পাতা : www.twitter.com/tahmid1993


স্পন্সরড এলার্ম



ডিজাইনে কালারের ব্যবহার :: [ পর্ব ৫ ] :: (How To Use Color in Design – [ Part 05]
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম,
আস-সালামু আলাইকুম,
এই পর্ব থেকে ধারাবাহিক ভাবে Color Psychology বা রং এর মনোবিজ্ঞান নিয়ে লিখবো। কোন কলার কোথায় ব্যবহার করবেন, কেন ব্যবহার করবেন, কালারের অর্থ কি, কোন কালার কি অর্থে ব্যবহার করা যায়, ইত্যাদী বিষয়গুলোই মূলত রঙের মনোবিজ্ঞান এর আলচ্য বিয়ষ।
ডিজাইনে কালারের ব্যবহার পর্ব-৫ লিখতে বসলাম। কপি পেস্ট করার পূর্বে অবশ্যই কপি পেস্ট করার নিয়ম দেখে নিবেন। (আর্টিকেলের সবার নিচের কপি পেস্ট করার নিয়ম দেওয়া আছে)
যারা এর আগের পর্বগুলো দেখেন নাই। তারা এই পর্ব পড়ার পূর্বে অবশ্যই আগের পর্ব গুলো পড়ে নিবেন। কেউ আগের পর্ব না পড়ে এই পর্ব পড়বেন না প্লিজ। তাহলে হয়তো বুঝতে কষ্ট হবে আপনার। কেননা, এই লেখা গুলো আমি আমার মতো করে লিখছি।

ডিজাইনে কালারের ব্যবহার :: [ পর্ব ১ ] :: (How To Use Color in Design – Part 01)

ডিজাইনে কালারের ব্যবহার :: [ পর্ব ২ ] :: (How To Use Color in Design – [ Part 02]

ডিজাইনে কালারের ব্যবহার :: [ পর্ব ৩ ] :: (How To Use Color in Design – [ Part 03]

ডিজাইনে কালারের ব্যবহার :: [ পর্ব ৪ ] :: (How To Use Color in Design – [ Part 04]

Color Psychology বিষয়টা আমার কাছে অত্যান্ত বিদঘুটে মনে হয়। কেননা, রঙ এমন একট বিষয় যেটার সমাধান কেউ-ই ১০০% করতে পারে না। কেননা, রঙ মানুষের ধর্ম, প্রকৃতি-পরিবেশ, লিঙ্গ, জাতি, সমাজ এবং জাতীয়তার উপরে নির্ভর করে। যার কারণেই মূলত এর সমাধান কখনোই ১০০% করা সম্ভব হয় না। কারণ সারা দুনিয়ার মানুষের সবার কালার বা রঙ এর পছন্দশীলতা এক নয়।
বাংলাতে কিছু কিছু আর্টিকেল আছে কালার সাইকোলজি নিয়ে। তবে তার অধিকাংশই ইংরেজী আর্টিকেলের বঙ্গানুবাদ। তবে আমি আমার নিজের মত করেই লিখতে চেষ্টা করবো। কালার সাইকোলজির অনেক দিক রয়েছে। তবে আমি সব দিক নিয়ে লিখবো না। কেননা, তা কখনোই সম্ভব নয়। শুধু ডিজাইনে কিভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন ধরনের ডিজাইনের জন্য কিভাবে কোন রঙ ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে কিছু লিখবো।
সাইকোলজির মধ্যেই আমার আর্টিকেলের অনেক বিষয় আলোচনা হয়ে যাবে। ১ম পর্বে আমি কিছু বিষয় বলেছিলাম যে, এই এই বিষয়ের উপরে লিখবো। যার অধিকাংশ বিষয়ই সাইকোলজির অন্তর্ভুক্ত। কালার সাইকোলজির উপরে অনেক গুলো অার্টিকেল লিখার ইচ্ছা আছে। অনেকে বড় আর্টিকেল পড়তে বিরক্তবোধ করেন। তাই চেষ্টা করবো একটু ছোট ছোট করে একেকটা পর্ব লিখতে।
কালার সাইকোলজির সে বিষয় গুলো নিয়ে লিখবো:-
0১. কালার সাইকোলজি কি? এবং প্রয়োজনীয়তা কি?
0২. রঙ এর আচরণ বা কোন রঙ কি অর্থ বহন করে?
0৩. কোন ধরনের ডিজাইনের জন্য কি রঙ ব্যবহার করতে হয়?
০৪. রঙ এর উজ্জলতার (Color Contrast) ব্যবহার কোথায় কিভাবে করতে হয়?
০৫. ব্যক্তিভেদে রঙ ব্যবহারের ধরণ।
০৬. কোন দেশের জন্য কোন রঙ এর ব্যবহার করলে ভালো প্রতিক্রিয়া (Feedback) পাওয়া যায়?
০৭. রঙের মনোবিজ্ঞান নিয়ে আরো কিছু কথা।
0১. কালার সাইকোলজি কি?
প্রথমেই যে বিষয় আমাদের মাথায় আসে যে, কালারে মধ্যে আবার সাইকোলজি কেন? একটা কালার ব্যবহার করলেইতো হয়। এইসব ঝামেলা পাকায়া কি লাভ? মাইনষের আর খায়া-লয়া কাম নাই :/ আজাইরা জিনিস নিয়া লেখালিখি করে;)
হ্যা। সাইকোলোজির দরকার আছে। দরকার আছে আপনার ডিজাইনকে আরো বেশী আকর্ষনীয় এবং গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য। আপনি যদি আপনার মতই দুনিয়ার সব কিছু ভাবেন তাহলে কিছুই করতে পারবেন না। বরং আপনাকে দুনিয়ার মানুষের চিন্তা-চেতনা, চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদী নিয়ে চিন্তা করেই ডিজাইন করতে হবে একটা নির্দিষ্ট রঙ নিয়ে। তাহলেই আপনি আপনার ডিজাইন দিয়ে আপনার কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌছতে পারবেন। নতুবা মুকুলেই ঝড়ে পড়বেন।
যখন কোন ডিজাইনে রঙ নির্বাচন করার পূর্বে যাদেরকে লক্ষ্য করে ডিজাইন করছেন, তাদের আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ, ডিজাইনের উদ্দেশ্য, দেশ, জাতীয়তা, লক্ষ্য, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদী বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করা হয় বা এই বিষয়ের উপরে যে পড়াশুনা রয়েছে, তাকেই কালার সাইকোলজি বা রঙের মনোবিদ্যা বলা হয়।
এক কথায় আপনি যাদের জন্য বা যে বিষয় নিয়ে ডিজাইন করতে চান, সেই ডিজাইনের জন্য রঙ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কিছু গবেষণা প্রয়োজন সেই গবেষণাটাই হচ্ছে কালার সাইকোলজির অন্তর্ভূক্ত। এইদিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে,
  1. Color Contrast
  2. Color Usability
  3. Color Meaning
  4. Color Accessibility
  5. Color Symbolism
  6. Color Gender
  7. Color Age
ইত্যাদী বিষয়গুলো সহ আরো অনেক কিছুই হচ্ছে কালার সাইকোলজির অন্তর্ভূক্ত। এই সকল বিষয়গুলো আপনার রঙ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইনশা-আল্লাহ পর্যায়ক্রমে অনেকগুলো পর্বে প্রত্যেকটি বিষয়ের উপরে আমার সক্ষমতা অনুযায়ী লিখার চেষ্ট করবো।
০২. কালার সাইকোলজির প্রয়োজনীয়তা কি?
অনেকেই কালার সাইকোলজির প্রয়োজনীয়তা এতক্ষণে বুঝে গেছেন। ডিজাইন করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়া আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছোটবেলা ক্রিকেট খেলে নাই এমন লোক বাংলাদেশে খুব কমই আছে। আমরা ছোট বেলা ক্রিকেটের বলের সাথে লাল টেপ পেচাতাম। কেন পেচাতাম কেউ বলতে পারেন? অনেকেই হয়তো এই বিষয়ে কখনোই চিন্তাও করেন নাই যে, লাল টেপ পেচানোর মধ্যে আবার কোন কারণ থাকতে পারে নাকি??? আবার অনেকেই মনে করতেন যে, সবাই পেচায় তাই আমিও পেচাইছি;) অনেকেই মনে করেন যে, বড় ভাইয়ারা পেচাইছে তাই আমিও পেচাইছি :p অনেকেই মনে করতেন যে, ICC এর বল এর কালার লাল তাই লাল টেপ পেচাইছি 😀
ICC এর বলের কালার লাল মানলাম কিন্তু ICC এর বলের কালার অনেক সময় সাদাও হয়!!! তাহলে এখন আপনি কিভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করবেন?
এটার ব্যাখ্যাটা খুব একটা জটিল নয়। লাল কালারের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশী যার কারণে এটা অনেক দূর থেকে খুব স্পষ্টভাবেই দৃষ্টিগোচর হয়। কেননা, যখন ছক্কা বা চার মারা হয় তখন বল অনেক দূরে চলে যায়, আর বলারের দূরত্বও থাকে ব্যাটিং যে করে তার থেকে অনেকটা দূরে। যার কারণেই মূলত লাল কালারের বল থাকে। আর আমরা ছোট বেলা লাল টেপ পেচিয়েছি।
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের ছোটবেলার খেলার মাঠ স্টেডিয়ামের মত ছিল না। যার জন্য বল একটু জোড়ে পেটালেই জঙ্গল, কচুরিপনা, পুকুর, ঝোপঝাড়ের মধ্যে চলে যেত। আর লাল টেপ পেচানো থাকার কারণেই মূলত ঝোপঝাড় থেকেও বলটা সহজেই খুজে পাওয়া যেত।
আর সাদা বল ব্যবহার করা হয় রাত্রের খেলাতে। কেননা, রাতের অন্ধকারে বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে সাদা কালারটা দূর থেকেও খুব স্পষ্ট দেখা যায়। যার দরূন রাত্রে লাল বলের পরিবর্তে সাদা কালারের বল ব্যবহার করা হয়।
এখন একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন যে, একটা ক্রিকেট খেলার বলের রঙ নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও কতটা বেশী সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করা হয়েছে। আর যার কারণেই রাত্রে হোক আর দিনে হোক খেরোয়ারদের জন্য ক্রিকেট খেলাটা অনেক সুবিধা হচ্ছে। কেননা, বল যদি ঠিক মত না দেখা যেত তাহলে হয়তো খেলাটাই আর ভালো ভাবে খেলা যেত না।
তেমনি ভাবে রঙ যেমন ‍দৃষ্টিশক্তিকে বৃদ্ধিকে পরিবেশ অনুযায়ী তেমনি ভাবে অনেক সময় এই একই রঙ অবস্থান এবং পরিবেশভেদে ভিন্ন অর্থ বহন করে।
শহরে বসবাস করে কিন্তু রাতের রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যাল দেখে নাই এমন মানুষ খুব কম। লক্ষ্য করবেন ট্রফিক সিগন্যাল এ লাল আলোর ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু ক্রিকেট বলের লাল রঙ আর ট্রাফিক সিগন্যালের লাল আলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবহার, উদ্দেশ্য এবং অর্থের অনেক ব্যাবধান।
ট্রাফিক সিগন্যালে লাল আলো থেমে যাওয়ার নির্দেশ করে, আর ক্রিকেট খেলায় লাল রঙ দূরের ছোট বস্তু সহজেই দৃষ্টিগোচর হওয়ার নির্দেশ করে। এক জায়গায় সাবধানতা আর অরেক জায়গায় সহজবোধ্যতা নির্দেশ করে।
আবার বিভিন্ন বিপদপূর্ণ এলাকায় লাল রঙ দিয়ে কংকালের ছবি আঁকা থাকে। সেখানেও লাল রঙ থাকে কিন্তু সেটা ব্যবহার হয় বিপদ সংকেত দেওয়ার জন্য।
নদীতে যারা রাত্রে চলেছেন তার হয়তো দেখে থাকবেন যে, যে সকল যায়জাগ ডুবো চর আছে সে জায়গায় একটা লাল সিগন্যালের বাতি বা লাইট একটু পরপর জ্বলে উঠে। এটার অর্থ হচ্ছে তুমি এইদিক দিয়ে নয় ওই দিক দিয়ে যাও। অর্থাৎ নদীতে লাল আলো সতর্কতার সাথে নির্দিষ্ট নদী পথের নির্দেশনা দিচ্ছে। এখানে লাল কালার দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
আর যারা নদীতে মাছ ঘরে তাদের মাছের জাল ভাসিয়ে রাখার জন্য এক ধরনের ছিপ বা লাল কালারের বল ব্যবহার করা হয়। ছিপটির কয়েকটি কাজ, ১. সে মাছের জাল ভাসিয়ে রাখে। ২. দূর থেকে জাহাজ চালককে জালের অবস্থান সম্পর্কে দেখতে সাহায্য করে ৩. জালের দূর্বলতা প্রকাশ করে ৪. পাশ কটিয়ে যাওয়ার নির্দেশ করে। অর্থাৎ লাল কালারটি দূর থেকে এটা বলছে যে, এখানে জাল আছে যা খুবই নরম, তুমি যদি জাহাজ নিয়ে এখান দিযে যাও তাহলে জালটি ছিড়ে যাবে। সুতরাং তুমি এখান দিয়ে যেও না। পাশ কাটিয়ে যাও।
তেমনি ভাবে প্রত্যেকটি রঙ ই বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরণের নির্দেশনা দেয়। রঙের এই সকল বিষয়গুলো খুব সুক্ষভাবে জনার জন্যই যে জ্ঞান রয়েছে তা ই হচ্ছে কালার সাইকোলজি বা রঙের মনোবিদ্যা।
অর্থাৎ আপনাকে সুক্ষাতিসুক্ষ ভাবে ডিজাইনে রঙের ব্যবহার করতে যে জ্ঞান সর্বদা আপনাকে সহায্য করবে, সে জ্ঞানটিই হচ্ছে কালার সাইকোলজি।
ভাল লাগলে অবশ্যই টিউমেন্ট করতে ভুলবেন না। কেননা, আপনার একটু অনুপ্রেরণা আমাকে আরো ভাল কিছু উপহার দিতে উৎসাহি করে।

চলবে

আর কেউ আর্টিকেলটি অনুগ্রহ করে আমার অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করবেন না। ফেইসবুকে শেয়ার করেন সমস্যা নাই কিন্তু কেউ কপি করলে আর্টিকেলের নিচে আমার নাম সহ ফেইসবুক আইডির লিংক অবশ্যই দিবেন এবং কোথায় কপি করছেন সেটা আমাকে ফেইসবুকে ম্যাসেজ করে জানাবেন প্লিজ।

আর এই লেখা সম্পূর্ণই আমি আমার মত করে লিখেছি। তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ধন্যবাদ,

তাহমিদ হাসান

ফেইসবুকে আমি: https://www.facebook.com/tahmid.hasan3

(1146)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এই এলার্মটিতে ১টি এলার্মেন্টস করা হয়েছে

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon