বহু পৃথিবী (Al-Quran and the Mdern Science) | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
মারিয়া মাহি

মোট এলার্ম : 56 টি


আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক :

» আমার টুইটার পাতা :


স্পন্সরড এলার্ম



বহু পৃথিবী (Al-Quran and the Mdern Science)
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

আসসালাম ওয়ালাইকুম

 

world 

বিজ্ঞান যদিও বিকল্প পৃথিবীর সঠিক সন্ধান দিতে পারেনি,ধারণা করছে বিকল্প পৃথিবী ও মানুষের মত উন্নত প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। ধোসর পৃথিবীর সন্ধান মিলেছে কিন্তু প্রানের অস্তিত্ত্ব নিশ্চিত হয়নি। অথচ পবিত্র কোরআন ১৪০০ বছর আগে বহু পৃথিবীর কথা ঘোষণা করে রেখেছে। সূরা আত্ব-তালাকের ১২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ্ বলেন,

لَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا

65:12 আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।

এই আয়াতটির সাথে আরেকটি আয়াতের দিকে লক্ষ্যকরুন, সূরা আশ-সুরার 29 নং আয়াতে মহান আল্লাহ্ বলছেন,

وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيهِمَا مِن دَابَّةٍ وَهُوَ عَلَى جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَاء قَدِيرٌ

42:29 তাঁর এক নিদর্শন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীব-জন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি যখন ইচ্ছা এগুলোকে একত্রিত করতে সক্ষম। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

আয়াত 65:12 বলছ বহু পৃথিবীর কথা আর আয়াত 42:29 বলছে মহাবিশ্বে প্রাণ ছড়িয়ে থাকার কথা। কি বিশ্বয়কর বর্ণনা।

65:12 আয়াতটিতে মহান আল্লাহ্  বলছেন,তিঁনি সপ্ত আকাশ তৈরী করেছেন,এবং সেই পরিমান পৃথবীও সৃষ্টি করেছেন; এখানে مِثْلَهُنَّ শব্দটির প্রচলিত তরজমা করা হয়েছে ‘সেই পরিমানে’,অর্থাৎ পূর্ববর্তী বক্তব্যকে বিশেষায়িত করেছে।

লক্ষ্য করুন,

65:12  এর প্রচলিত তরজমা থেকে যে ধারণা পাওয়া যায় তা হল ,মহান আল্লাহ্ সাতটি মহাকাশ ও সাতটি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,তাহলে নিম্নোক্ত প্রশ্নমালার উদ্ভব হয়,

1:এই পৃথিবীগুলি কখন সৃষ্টি হয়েছিল, 2: তাদের অবস্থান কোথায়, 3:প্রকৃত পক্ষেই কি পৃথিবী সাতটি?

এবার দেখা যাক সপ্ত আকাশ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আরও কি কি বাক্য রয়েছে,

الَّذِي هُوَ خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

2:29 তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে অবহিত।

تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلاَّ يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ وَلَـكِن لاَّ تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا      -Al-Isra’, 17:4417:44 সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যাকিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاء أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاء الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِFussilat, 41:12   অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।এমনি ভাবে পবিত্র কোরআনে সাতটি বিভিন্ন সূরায় ভিন্ন ভিন্ন সাতটি আয়াতে আকাশ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে; আয়াতগুলোর মধ্যে একমাত্র 65:12 আয়াতে সাত আকাশ ও সেই পরিমান পৃথিবী সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে; তা ছাড়া বাকি আয়াতে সাত আকাশ ও এক পৃথিবী সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। 65:12 আয়াতে مِثْلَهُنَّ, শব্দটি দ্বারা একাধিক পৃথিবীর ধারণা দেওয়া হয়েছে।শব্দটির শাব্দিক তরজমা ‘তাদের মত’ ; শব্দটিতে দু’টি অংশ,  مِثْلَ  – মত বা সাদৃশ (নাম বাচক শব্দ বা বিশেষ্য)। দ্বিতীয় অংশটি هُنّ  – তাদের (সর্বনাম পদ); এই অংশটির ব্যবহার লক্ষণীয়। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় এটি ‘সপ্ত’ পদটির স্থলাভিসিক্ত হয়েছে। লক্ষ্য করুন আয়াত 41:12 তে দয়াময় বলছেন,‘পরে তিঁনি দুই দিনে সাত আসমানকে নিয়মিত করলেন এবং প্রতি আসমানকে অহির মাধ্যামে নির্ধেশ দিলেন; আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত ও সুরক্ষিত করেছি।’ এই বর্ণনায় আরও পরিস্কার হয়ে গেল- যদি সাত পৃথিবীও হয়ে থাকে তবে তা এই নিকটবর্তী আকাশেই অবস্থিত। আবার আকাশ বলতে আমরা এই তারকা রাজিকেই বুঝি,এক্ষেত্রে আমাদের ও দয়াময়ের ভাষায় আকাশ একটিই; এর বাইরে আর কোন আকাশের সাথে আমাদের সম্যক পরিচয় নাই; বাকী ছয় আকাশ এর পরে অতলান্ত মহাশূণ্য যার পরিমান আমাদের আকাশের ছয়গুন বা তারচেয়ে কম-বেশী(আল্লাহ্ই জানেন ভাল)।তাহলে দেখা যাচ্ছে এই ‘তাদের ’ শব্দটি একটি অনির্দিষ্ট সংখ্যাকে বুঝিয়েছে(প্রকৃত পক্ষে শব্দটি বহুবচনীয় সর্ব্সনাম পদ)।আবার 42:29 আয়াতে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছেছে।আমরা জানি প্রাণের অস্তিত্বের জণ্যে আবাসযোগ্যতা চাই,যা আমাদের জানামতে রয়েছে একমাত্র পৃথিবীতে। ফলে পৃথিবী ভিন্ন অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে হলে তা পৃথিবীর মতই আবাসযোগ্য হতে হবে-অর্থাৎ পৃথিবীর মত। আর  مِثْلَ  শব্দটির তরজমাও ‘মত’। ফলে একথা পরিস্কার যে অন্যাণ্ণ আবাস যোগ্য স্থানগুলি পৃথিবীরই মত। আবার 42:29 আয়াতে মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্বকে সীমিত করা হয়নি-অর্থাৎ বহু আবাসযোগ্য স্থানেই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এমনি ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই আলোচনা থেকে পরিস্কার হয়ে গেল আমাদের মহাবিশ্বে একাদিক স্থানে আবাসযোগ্য মহাজাগতিক বস্তু ও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।‘ভূমণ্ডলে প্রাণের আবর্ভিাব ঘটেছে’ এটা সহজবোধ্য,কন্তু নভোমণ্ডলে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এটা সহজবোধ্য নয়্‌,আধুনিক বিজ্ঞানের কাছেও এ এক বিষ্ময়কর তথ্য।একবার ভেবে দেখুন 1400 বছর পূর্বে যখন মানুষের মনে নভোমণ্ডল সম্পর্কে সঠিক কোন ধারনাই জন্মায়নি তখন আরবের এক মরুচারীর পক্ষে কি করে বহু পৃথিবীর ইঙ্গিত দেওয়া সম্ভব। এই ইঙ্গিতবহ বাণী অবশ্যই অলৌকিকতার দাবীধার।। ক্ষোদ বিজ্ঞান তার প্রমাণ দিচ্ছে।আজ নিসঙ্কোচে বলাচলে পবিত্র কোরআন এক মহাবিজ্ঞানময় আল্লাহর বাণী।

সূধী পাঠক আমরা এবার দেখবো আধুনিক বিজ্ঞান এই বহু পৃথিবী নিয়ে কি বলছে,

হার্ভাড স্মিথোনিয়ান (Harvard-Smithsonian)  কেন্দ্রের জ্যোতির্বিজ্ঞানী Dr David Charbonneaua and Dr Courtney Dressing বলেছেন যে,প্রায় 6% বামন তারারই পৃথিবীর আকৃতির আবাসযোগ্য গ্রহ রয়েছে। আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে প্রায় 13 আলোক বর্ষ্ দূরে তারার সাথে পৃথিবী আকৃতির গ্রহ রয়েছে।

ডঃ কার্টেনে বলেন,‘আমরা ভেবেছিলাম পৃথিবীর মত গ্রহ পেতে আমাদেরকে বহুদূর খুঁজে দেখতে হবে,কিন্তু তা আমাদের আঙ্গিনার পেছনেই অপেক্ষা করে আছে চিহ্নিতওয়ার আশায়। লাল বামন তারা সূর্য অপেক্ষা ছোট,শীতল ও কম দিপ্তীময়।এই তারারা গড়ে সূর্যের তিনভাগের একভাগ ভর বিশিষ্ট হয় এবং উজ্জ্বলতায় হাজার ভাগের একভাগ হয়ে থাকে।পৃথিবী থেকে কোন লাল বামন তারাকে খালি চোখে দেখা যায়না। ক্ষীণতা স্বত্ত্বেও এই তারাগুলি পৃথিবীর ন্যায় গ্রহ থাকার ভাল জায়গা। আমাদের ছায়াপথে প্রতি চারটি তারায় তিনটি লাল বামন তারা দেখা যায়; তাতে করে কম করে হলেও ৭৫ বিলিয়ন লাল বামন তারার আবাসস্থল আমাদের এই ছায়াপথ। যেহেতু নক্ষত্রের পরিমান কম তাই গ্রহের অবস্থান্তর সম্ভবনা বেশী ফলে তারামণ্ডলে পৃথিবীর ন্যায় গ্রহ থাকার সম্ভবনাও যথেষ্ট। যেহেতু গ্রহের  কক্ষ গতি দুইটি তাই আমাদের দৃষ্টিতে শীতল তারাগুলিতেই আবাসযোগ্যতার পরিবেশ বেশী। জ্যোতির্বিদরা কেপলার তালিকা থেকে 1,58,000 তারার আকৃতি ও তাপীয় বৈশিষ্ট পর্যালোচনা করে তাদেরকে লাল বামান তারা হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন। তারা দেখেছেন যে ঐ তারা গুলি আগের তুলনায় ছোট ও মীতল।

ডঃ ডেসিং এর দল 95টি গ্রহ সদস্য নির্দিষ্ট করেছেন যারা লাল বামন তারাদের প্রদক্ষিণ করে। এই পর্যবেক্ষণ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এ ধরনের তারার প্রায় ৬০ শতাংশের গ্রহ রয়েছে যাদের আকৃতি নেপচুনের চেয়ে ছোট। যাই হোক অধিকাংশেরই সঠিক আকৃতি ও সঠিক তাপমাত্রা নেই যে ঠিক পৃথিবীর মত মনে করা যায়। তিনটি গ্রহ সদস্য পাওয়া গেছে যাদের আকৃতি ও তাপমাত্রা প্রায় পৃথিবীর মত। আর এই হিসেব থেকে পরিসংখ্যানের নিয়ম অনুযায়ী বলা যায় যে সকল বামন তারার মধ্যে ৬% তারার পৃথিবীর মত গ্রহ থাকা উচিৎ। Dr David Charbonneau বলেন,আমাদের ছায়াপথে অনেক নক্ষত্রেরই আবাসযোগ্য গ্রহ থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরেও জীবন খুঁজে পাওয়ার  সম্ভাবনা যথেষ্ট।আমাদের সূর্যের চারিদিকে পঙ্গপালের মত লাল বামন তারায় আবৃত।কাছাকাছি তারাদের প্রায় ৭৫ শতাংশই লাল বামন তারা। সুতরাং তাদের ৬ শতাংশই আবাসযোগ্য গ্রহের ধারক। নিকটতম পৃথিবী সাদৃশ্য জগৎ মাত্র ১৩ আলোক বছর দূরে অবস্থিত।যেহেতু লাল বামন তারার জীবনকাল সূর্যের চেয়েও বেশী,ফলে তাদের পোষ্য গ্রহে আমাদের চেয়েও  প্রবীণ ও বুদ্ধিমান প্রজাতি  থাকার সম্ভবনা আশ্চর্য্ ভাবে বেশী। Dr David Charbonneau মনে করেন যে, আমরা অবশ্যই অনেক পুরানো পৃথিবী খুঁজে পাবো। উপরের ছবিটি নাসা কর্তৃক ৭ ই ফব্রুয়ারী ২০১৩ তে প্রকাশিত। সূত্র- science news. com.

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়কে লক্ষ করে বিভিন্ন আয়াত নাযিল করেছেন। তা থেকে বুঝা যায় জ্বীন আরেকটা সম্প্রদায় যারা মানব সম্প্রদায়ের মতই সচল এবং পবিত্র কোরআন অনুযায়ী তারাও মহাবিচার দিনে বিচারের সম্মুখীন হবে। যদিও তারা আলোর তৈরী তথাপি তাদের ওজন আছে,কিন্তু আমরা তাদেরকে দেখতে পাইনা,তাদের আবাস স্থল সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা না থাকলেও ফিরিশতাদের আবাস স্থল সম্পর্কে পবিস্কারভাবেই ধারণা দেওয়া হয়েছে যে তারা আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে পৃথিবীতে আসা যাওয়া করে। তারাও আলোর তৈরী। সৃষ্টি বৈশিষ্ট একরকম হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি তাদের বাসস্থানও ফিরিশ্তাদের মতই অন্য কোন আকাশে। এইরকম অবস্থান থেকে মহাশূণ্যে চলাচলের জন্য তাদেরকে বিস্তর পথ পাড়ি দিতে হয় যা আমাদের কল্পনারও অগম্য। তাই মহান আল্লাহ তাদের চলাচলের জন্য মহাশূণ্যের সংক্ষিপ্ত পথ তৈরী করে রেখেছেন,যাকে কোরআনে মা’রিজ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ্ দিনের পরিক্রমায় এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও আমাদের ধারনার বাইরে ছিল এই মা’রিজ শব্দটির পূর্ণাঙ্গ ভাবের সাথে আমরা খুব ভাল ভাবে পরিচিত ছিলামনা। হালে যখন বিজ্ঞান মহাকাশের বিভিন্ন স্থানে Wormholes বা মহাজাগতিক সুড়ং খুঁজে পেল তখনই আমরা বুঝতে পারলাম মহান দয়াময় মা’আরিজ শব্দটি দিয়ে এই  Wormholes এর কথাই বলেছেন। যাই হোক এটুকু পরিস্কার হয়ে গেল যে ভিন্ন জগতের অধিবাসীরা এই বিশেষ পথ দিয়েই মহাকাশে বিস্তর দূরত্ব স্বল্প সময়ে অতিক্রম করে চলাফেরা করে। এই পথ দিয়ে চলাচলকারীদের যেমন দেখতে পাইনা তেমনি এই পথগুলিও আমরা দেখতে পাইনা। তবে এদের উপস্থিতি বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছে কিন্তু তা ব্যবহার করার প্রযুক্তি এখনো খুঁজে পায়নি; তবে ভবিষ্যতের কোন এক সময়ে হয়তোরা তা মানুষের নাগালের মধ্যে এসেযাবে। পবিত্র কোরআন এমনিতর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে,কোরআন বলছে মানুষ উন্নতি করবে ধাপে ধাপে। শুধু তাই নয় তার উদাহরণ ও রেখেছে নবীজির মিরাজ এর মধ্য দিয়ে। মি’রাজ (معراج) শব্দটি মা’আরিজ (معارج) শব্দের একবচন।  সূরা আল মা’রিজ এর ৩ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন,

مِّنَ اللَّهِ ذِي الْمَعَارِجِ

৭০:৩ তা আসবে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে, যিনি সমুন্নত মর্তবার অধিকারী।

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

১৭:১ পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

মহান আর্লাহ্ হয়তোবা মহাকাশে প্রতিবেশীদের চলাচলের জন্যই এই মহাজাগতিক সূড়ং গুলি তৈরী করেছেন।একদিন হয়তোবা পৃথিবীর মানুষও এ পথের সন্ধান পেয়ে যাবে। (481)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > > > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon