আসছে হৃদয় মেরামতের আঠা!জেনে নিন | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
আমি টেকনোলজি

মোট এলার্ম : 119 টি

আমি টেকনোলজি

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক :

» আমার টুইটার পাতা :


স্পন্সরড এলার্ম



আসছে হৃদয় মেরামতের আঠা!জেনে নিন
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

মানুষের হৃৎপিণ্ডের মাঝে জন্মগত কিছু ত্রুটি দেখা যায়। এটা নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে শুনেছেন যে কোনও একটি শিশুর হৃৎপিণ্ডে রয়েছে ছিদ্র। এই ছিদ্রের কারণে তার সাধারণ জীবন-যাপন করা হয় না। আর দশটা মানুষের সাথে তার রয়ে যায় পার্থক্য। এই ত্রুটি ঠিক করাটা একদিক দিয়ে যেমন খরুচে, আরেক দিক দিয়ে তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ। খুব সাধারণভাবে চিন্তা করলে বলা যায়, এই ফুটো কি কোনও আঠা দিয়ে বন্ধ করা যায় না? অনেকেই এটা শুনে হাসতে পারেন। কিন্তু ব্যাপারটা কিন্তু এখন সম্ভব। হৃৎপিণ্ডের ত্রুটি ঠিক করতে উদ্ভাবিত হয়েছে এক ধরণের আঠা যা হৃৎপিণ্ডের ভেতরেও কাজ করবে।

হৃৎপিণ্ডের ভেতরে আঠা ব্যবহারের একটা সমস্যা আছে। যেনতেন আঠা দিয়ে কাজ হবে না। এমন আঠা হতে হবে যেটা বায়োডিগ্রেডেবল, অর্থাৎ সেটা শরীরের সাথে একসময় মিশে যাবে। হতে হবে শরীরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। একটু নমনীয় হতে হবে একে, যাতে বেশ কিছুটা টান সহ্য করতে পারে। আর তার ওপরে এমন এক পেশি ধরে রাখতে হবে একে যা সারাক্ষণ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। সাধারণ আঠা এক্ষেত্রে কাজ করবে না, সেটা বোঝাই যায়। কার্যকরী একটি সার্জিক্যাল গ্লু তৈরির প্রচেষ্টা চলে আসছে অনেকদিন ধরেই। সেটা করতেই সক্ষম হয়েছেন জেফ্রি কার্প নামের এক গবেশক।

প্রায় এক দশক আগে এক ধরণের বায়োডিগ্রেডেবল পলিমান নিয়ে কাজ করছিলেন কার্প। তিনি এর সাহায্য দুই টুকরো কাঁচ জোড়া লাগাতে সক্ষম হন। কিন্তু এরপরে অন্য একটি গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি, বেমালুম ভুলে যান এই পলিমারের কথা। পড়ে বস্টন চিল্ড্রেন’স হসপিটালের সার্জন পেড্রো ডেল নিডোর সাথে দেখা হয় তার। তিনি বাচ্চাদের হৃৎপিণ্ডের ফুটো বন্ধ করার একটা ভালো উপায় খুঁজছিলেন। তখন সেই পুরনো পলিমারের কথা মনে করেন কার্প। ডেল নিডো এবং আরও কিছু সার্জনের সাথে মিলে তিনি ওই পলিমারকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি সেই আঠা পরীক্ষা করে দেখা হয় জীবন্ত ইদুর এবং শুকরের ওপর।

ল্যাবরেটরিতে ইদুরের হৃৎপিণ্ডের ফুটো এবং শুকরের ধমনীর ক্ষত মেরামত করতে এই আঠা ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, অন্য এক ধরণের পদার্থ থেকে তৈরি করা একটি “প্যাচ” বা “তালি” দিয়ে হৃৎপিণ্ডের ভেতরের ফুটো মেরামতের কাজেও এই আঠা কাজ করে ঠিকভাবেই। এমনকি একটি ইঞ্জেকশন দিয়ে ওই শুকরের হৃৎস্পন্দন মিনিটে ১৯০ এ উঠিয়ে দেবার পরেও ওই আঠা জায়গামত থাকে। হৃৎপিণ্ডে এমন ত্রুটি থাকার কারণে সাধারণত অপারশনের পরেও রোগীরা খুব ভারি কোনও ব্যায়াম করতে পারেন না। তাদের হৃৎস্পন্দনের মাত্রা কম রাখা লাগে। কিন্তু এই আঠা যদি মানুষের শরীরে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তবে হৃৎস্পন্দন বেশি হলেও তার সমস্যা হবে না।

বর্তমানে এমন কিছু সার্জিক্যাল আঠা আছে বটে কিন্তু সেগুলো বেশি কার্যকরী না। এগুলো হয় হৃৎপিণ্ডের পেশি ধরে রাখার মতো যথেষ্ট শক্ত না, অথবা শরীরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ না। এই আঠায় কি ধরণের রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়? কার্প এর আইডিয়া পান মাকড়শার জাল থেকে। মাকড়শার জাল এতই আঠালো হয় যে সেটা কোনও পৃষ্ঠের ওপরে পড়লে শক্ত হয়ে আটকে থাকে। একই সাথে সেটা পানিরোধী। এইভাবেই তার বিশেষ আঠাটি তৈরি হয়। হৃৎপিণ্ডের ওপরে প্রয়োগ করে পাঁচ সেকেন্ড এর উপরে অতিবেগুনী রশ্মি ফেললে সেটা শক্ত হয়ে আটকে যায়। এই আঠা সব রকমের সরকারি এবং আইনি বিধিনিষেধ পার করে অনুমোদিত হলে হৃৎপিণ্ডের এমন ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া মানুষেরা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো উপকার পাবে।    সূএ:priyo.com

(633)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon