সবচেয়ে শক্তিশালী কৃষ্ণবিবরের সন্ধানে (২য় পর্ব) | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
ইয়াসমিন রাইসা

মোট এলার্ম : 236 টি


আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক :

» আমার টুইটার পাতা :


স্পন্সরড এলার্ম



সবচেয়ে শক্তিশালী কৃষ্ণবিবরের সন্ধানে (২য় পর্ব)
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

এর আগের পর্বে আমরা RX J1532 গ্যালাক্সি পুঞ্জের গর্তের কথা জেনেছিলাম। গর্তের কথা শুনে আপনারা হয়ত মনে মনে ঢাকা শহরের রাস্তার গর্তগুলো কথা চিন্তা করছেন! কিন্তু আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, এখানে যে গর্তের কথা বলা হয়েছে তা এক লক্ষ আলোকবর্ষের (আলো এক সেকেন্ডে যায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল, সেই হিসেবে এক সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ দূরত্ব বলে) সমান, যা প্রায় আমাদের এই ছায়াপথ বা Milky Way Galaxy-এর সমান চওড়া! এই গর্ত-এর সৃষ্টি হতে যে পরিমান শক্তি লাগে (সহজভাবে চিন্তা করুন, পুরান কোন জিনিসে ধুলোর পাহাড় জমে থাকলে তা সরাতে হলে অনেক শক্তি দিয়ে ফুঁ দিতে হয়… তেমনি এই বিপুল পরিমান গ্যাসকে এত দূরে ঠেলে সরিয়ে দিতে গেলেও একটি কৃষ্ণবিবর নির্গমের প্রচন্ড শক্তির প্রয়োজন) তা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত যে কোন গ্যালাক্সি পুঞ্জের মধ্যে সর্বোচ্চ! উদাহরণসরূপ বলা যায় বেশ সু-পরিচিত পার্সিয়াস (Perseus) গ্যালাক্সিপুঞ্জের গর্তের কথা। এই শক্তি পার্সিয়াস গ্যালাক্সিপুঞ্জের এমন গর্ত তৈরির জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়েছিল তার প্রায় দশগুন বেশি! যদিও এই নির্গম(Jet)দ্বয়কে পরিচালনা করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা অবশ্যই বস্তুর কৃষ্ণবিবরের অভ্যন্তরে পতনের কারণে সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে এক্স-রে এর বিচ্ছুরণ ঘটবে,কিন্তু এমন কোন পতনজনিত এক্স-রে বিচ্ছুরণের কোন সন্ধান এখানে পাওয়া যায় না। আর এটি একমাত্র তখনই হতে পারে যদি কৃষ্ণবিবরটি কেবল অতিমাত্রায় ভারী (Supermassive) নয়, অতি অতিমাত্রায় ভারী (Ultra massive) হয়! আন্দাজ করতে চান কত ভারী? আমাদের সুর্যের চাইতে ১০০০ কোটি গুন ভারী!এমন ভারী কৃষ্ণবিবরই আসলে কেবল পারে বিশাল পরিমান ভর না হারিয়েই এমন শক্তিশালী নির্গম তৈরি করতে, যার ফলে ভেতরে পতনরত বস্তুর কারণে খুব সামান্যই এক্স-রে বিচ্ছুরণ ঘটে!

আরেকটি সম্ভব্য ব্যাখ্যা হল, যে এই কৃষ্ণবিবরটা যে শুধু হাজার কোটি সুর্যের সমান ভারী তাই নয়, এটি লাটিমের মত প্রচন্ড গতিতে ঘূর্ণয়মান! এধরণের কৃষ্ণবিবর, ধীরে ঘুরপাক খাওয়া কৃষ্ণবিবরদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী নির্গম (Jet) তৈরি করতে পারে, যখন উভয় ক্ষেত্রেই সমপরিমাণ পদার্থের শোষণ বা ভক্ষণ ঘটে। উভয় ব্যখ্যাতেই কৃষ্ণবিবর মারাত্মক রকমের ভারি!

একটি বেশ দূরবর্তী অবস্থানেও এমন আরেকটি গর্ত দেখা গিয়েছে এখানে যা নির্গম গুলোর দিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, উত্তর দক্ষিণ দিক বরাবর। এই গর্তটি দেখে মনে হচ্ছে যে এটি কৃষ্ণবিবরের অনেক আগেকার কোন উদ্গীরিত নির্গমের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এটি এই প্রশ্নের জন্ম দেয় যে কেন এই গর্তটি বর্তমান নির্গম অভিমুখের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর দুটি সম্ভব্য ব্যখ্যা হতে পারে, হয় এই পুঞ্জের গ্যাসের ব্যাপক হারে বিস্তারণ এটিকে ধাক্কা মেরে এক পাশে সরিয়ে দিয়েছে (মেঘে বাতাস লাগলে যেমন ঘটে) অথবা কৃষ্ণবিবরটি টালমাটাল অবস্থায় ঘুরছে, যেমন লাটিমের গতি ধীর হয়ে এলে এটি টলমল করতে আরম্ভ করে।

গত বছর নভেম্বরের ১০ তারিখে ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ এই গবেষণা সংক্রান্ত একটি পত্র প্রকাশিত হয়। বর্তমানে এটি অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে এই ঠিকানায় http://arxiv.org/abs/1306.0907
আসলে আমরা মহাবিশ্বের এতটাই ক্ষুদ্র অংশ জুড়ে আছি, যে এই মহাবিশ্বের কাছে আমাদের অবস্থান মোটামুটি নেই বললেই চলে! প্রতিনিয়তই আমরা আবিষ্কার করে চলেছি মহাবিশ্বের সীমাহীন রহস্যভান্ডার। আর এর ভেতর থেকেই আমরা এগিয়ে চলেছি এক অপার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে!

সূএ:-priyo.com

(728)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon