নিষ্ক্রিয় গ্যাস জেনন- চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশীর্বাদ, খেলাধুলায় অভিশাপ? | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
বিজ্ঞান প্রতিদিন

মোট এলার্ম : 77 টি


আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক :

» আমার টুইটার পাতা :


স্পন্সরড এলার্ম



নিষ্ক্রিয় গ্যাস জেনন- চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশীর্বাদ, খেলাধুলায় অভিশাপ?
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

রসায়নের পরিভাষায় কিছু মৌলিক পদার্থকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস নামে ডাকা হয়। এগুলো হচ্ছে-হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, জেনন, ক্রিপ্টন ও রেডন। নিষ্ক্রিয় বলা হলেও বিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রেই এদের প্রয়োগ রয়েছে। এই যেমন জেননের কথাই ধরা যাক। এর চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানা ধরণের প্রয়োগ রয়েছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার কি ‘নিষিদ্ধ ড্রাগ’ এর মতো কাজ করে?

১৯৫১ সালে অ্যামেরিকান চিকিৎসক স্টুয়ার্ট সি. কুলেন এক অপারেশনের এই নিষ্ক্রিয় গ্যাস প্রথমবারের মতো ব্যবহার করেন৷ এখনও কিছু ক্লিনিকে অ্যানাসথেসিয়ার উপাদান হিসাবে জেনন ব্যবহার করা হয়৷এর ফলে চেতনানাশক সহজে কাজ করে৷ কেননা এতে অন্যান্য গ্যাসের চেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে৷ অ্যানেসথেসিয়ার ক্ষেত্রে সময় স্বল্প সময়ে বেশি ডোজে জেনন ব্যবহার করা হয়৷ অন্যদিকে স্পোর্টস-এর ক্ষেত্রে অল্প ডোজের জেনন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়৷ সেক্ষেত্রে অক্সিজেন ও জেননের অনুপাত থাকে ৫০-৫০৷

স্বাভাবিকভাবে, প্রতিটি মানুষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে অল্প পরিমাণে নিষ্ক্রিয় গ্যাস জেনন গ্রহণ করে৷ এটি বাতাসের একটি উপাদান এবং বিষাক্ত নয়৷ তবে তা নির্ভর করে এর পরিমাণের ওপর৷ এই গ্যাস অনেক দিন ধরে প্রচুর পরিমাণে শরীরে ঢুকলে তার প্রতিক্রিয়া হয়৷ এটি শরীরের এরিথ্রোপয়টিন বা ইপিও হরমোনে প্রভাব বিস্তার করে, যা রক্তের লোহিত কণিকা চাঙা করতে সাহায্য করে৷ লোহিতকণিকা রক্তে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে৷ শরীরে লোহিত কণিকা বৃদ্ধি পেলে অক্সিজেনের মজুদও বাড়ে৷ এর ফলে দেহের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় অনেকটুকু। বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় এর একটা বড় ভূমিকা রয়েছে৷

শীতকালীন অলিম্পিকে ‘ক্রস-কান্ট্রি স্কিং’, ‘বায়েথলন’, ‘স্পিড স্কেটিং’ ইত্যাদি খেলায় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে জেনন৷ উঁচু স্থানে ট্রেনিং নিলেও জেননের মতো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়৷ খেলোয়াড়রা ২০০০ মিটারের ওপরে ট্রেনিং নিলে এই রকমটি ঘটে থাকে৷ সেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ কম বলে শরীরে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়৷ প্রচুর পরিমাণে ইপিও হরমোন উৎপাদন করে শরীর৷ এটা একেবারে স্বাভাবিক। কণিকাকে চাঙা করে এমন কিছু যদি আমি নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করি, তাহলে তা ডোপিং হতে পারে না৷ তবে এটাও পরিষ্কার যে জেনন ব্যবহার দক্ষতা বাড়ানোর এক পদক্ষেপ৷ একে ওষুধ হিসাবে দেখলে ডোপিংও বলা যেতে পারে৷

জেননকে ডোপিং-এর আওতায় ফেলা যায় কিনা এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে৷ ডোপিং এজেন্সিগুলোর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই নিষ্ক্রিয় গ্যাস দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হয় কিনা, তা দেখার বিষয়৷ জানান চিকিৎসক উডো মার্টিন৷ বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যহানিকর কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি৷ তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বহু নতুন অর্জনের ক্ষেত্রেও এ রকমটি দেখা গিয়েছে৷ যেগুলিকে প্রথমে নিরাপদ মনে হলেও পরে উল্টোটাই প্রমাণিত হয়েছে৷ এখন গবেষণাই স্বচ্ছতা আনতে পারবে৷”

(578)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon