কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনে ফ্যামিলিসহ, বন্ধুদের নিয়ে এবং সিঙ্গল ভ্রমন গাইড এর বিস্তারিত | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
তাহমিদ হাসান

মোট এলার্ম : 286 টি

তাহমিদ হাসান
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা,,, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,,, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,,, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া,,, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। !!!!!!!!! তাই টেকএলার্মবিডিতে এসেছি জানার জন্য।

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট : http://www.graphicalarm.com

» আমার ফেসবুক : www.facebook.com/tahmid.hasan3

» আমার টুইটার পাতা : www.twitter.com/tahmid1993


স্পন্সরড এলার্ম



কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনে ফ্যামিলিসহ, বন্ধুদের নিয়ে এবং সিঙ্গল ভ্রমন গাইড এর বিস্তারিত
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button
আস-সালামু আলাইকুম,আশা করি সকলেই ভালো আছেন 🙂 অনেকদিন যাবৎ ই আমার সেতিকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা + প্রচন্ড আকাক্ষা ছিল। আর্টিকেলের টাইটেল যা-ই হোক না কেন, আমি কিন্তু ফ্যামিলি নিয়েই গিয়েছিলাম 😛 তাই হঠাৎ করে জানুয়ারী মাসের ২৯ তারিখে ঘুরতে যাওয়ার প্লান করি। পরক্ষণেই মনে পড়ল যে, সাগরের সৌন্দর্য্য চাঁদের আলোতে না দেখলে নাকি জীবনের আঠারো আনাই বৃথা 😛 তাই দ্রুত আরবী মাসের ক্যালেন্ডারের দিকে দৌড়ে গেলাম। দেখলাম যে ফেব্রুয়ারীর ৯ তারিখে আরবী মাসে ১২ তারিখ। তার মানে ভরা পূর্ণিমা। তাই আর চিন্তা না করে ০৯-০২-২০১৭ তারিখ ই ঠিক করলাম 🙂 Travelers of Bangladesh নামক গ্রুপ এ আমি সব সময়ই অ্যাকটিভ থাকি। যখন ই ভালো লাগে গ্রুপটাতে গিয়ে ভ্রমণ কাহিনী পড়ি । ভ্রমণ কাহিনী পড়তে আমার খুব ভালো লাগে 🙂 গত এক বছর যাবৎ আমি এই গ্রুপটাতে নিয়মিত এ্যাকটিভ থাকি 🙂 । হঠাৎ করেই ঘুরতে যাওয়ার প্লান করলেও প্রস্তুতিটা ব্যাপকভাবেই নিয়েছিলাম। এর আগেও অবশ্য আমি এই যায়গায় দুইবার গিয়েছি এবং বাংলাদেশের প্রায় ৪০ টির মত জেলা ঘুরেছি। 🙂 কিন্তু সেতিকে নিয়ে এটা ছিল আমার প্রথম ভ্রমণ 🙂

ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই যা যা সাথে করে নিয়ে যাবেনঃ-

  • মানষিক প্রস্তুতি 😛
  • একটা ছোট ট্রাভেল ব্যাগ। যা সাথে রাখবেন সর্বদা। ট্রাভেল ব্যাগে প্রয়োজনীয় সব কিছু সাথে রাখবেন।
  • ঠান্ডার জন্য প্যারাসিটামল
  • স্যাভলন। যেহেতু সেন্টমার্টিন যাবেন
  • গজ/ব্যান্ডেজ
  • ওয়ানটাইম ব্যান্ডেজ
  • ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট। Flexi টা ভালো কাজ করে, Square এর
  • গ্যাস্ট্রিকের এর ট্যাবলেট। যা ব্যাথার ট্যাবলেটের সাথে খেতে হবে।
  • স্যালাইন
  • মেট্রোনিডাজল/এ্যামোডিস/ফিলমেট/ইমোটিল। পেটের লাইন ডাইরেক্ট হয়ে গেলে স্যালাইনের সাথে মাস্ট খাবেন 😛
  • কাটা যায়গায় দেওয়ার মলম
  • ছোট একটা পভিসেপ। যদি সম্ভব হয়।
  • পায়খানার কষা থেকে বাচার জন্য যেই ট্যাবলেট দরকার সেটা 😛
  • ভ্যাসলিন। অবশ্যই সাগরে নামার পূর্বে হাতে পায়ে মেখে নামবেন। যেহেতু শীতের দিন। তাহলে অন্তত হাতে পায়ের চামড়া ওঠার থেকে রক্ষা পাবেন।
  • টয়লেট টিস্যু একটা
  • ফেইস টিস্যু। যদি দরকার হয় আপনার
  • সাবান
  • শ্যাম্পু
  • ছোট এন্টি কাটার
  • ছোট কেচি
  • দিয়াশলাই
  • বার্মিজ সেন্ডেল। সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরে এটার প্রয়োজনীয়তা হারে হারে টের পাবেন 😉
  • গামছা
  • বীচে বা যেখানে সেখানে নামাজ পড়ার জন্য পাতলা একটা জায়নামাজ। (বাইতুল মোকাররম পাওয়া যায়। দাম মাত্র ৮০ টাকা)। অথবা এক্সট্রা একটা বড় মাপের গামছা নিয়ে যেতে পারেন। যেটাতে শুধু নামাজ পড়বেন।
  • প্রয়োজনীয় পোশাক।
  • পলিথিন
  • পাওয়ার ব্যাংক নিতে কোনভাবেই ভুল করবেন না। যা আমি করেছিলাম। যার ফলে অনেক ফডু তুলবার পারি নাই :’( 😛
  • এক্সট্রা একটা আইডিকার্ড। যেখানে আপনার পরিচয়, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার, একজন বন্ধুর মোবাইল নাম্বার, ন্যাশনাল আইডিকার্ড/পাসপোর্ট এর নাম্বার, জন্ম নিবন্ধন এর নাম্বার ইত্যাদী থাকবে। এটা আপনি ডিজাইন করে প্রিন্ট করে, লেমেনেটিং করে সাথে নিয়ে যাবেন। কেননা, দূর্ঘটনা কারো কাছে জিজ্ঞাসা করে আসে না। অন্তত কোন ধরণের দূর্ঘটনা যদি ঘটে যায়, তাহলে যেন আনপার লাশটা অন্তত আপনার পরিবারের কাছে ঠিকঠাক মত পৌছে। (এমন কিছু থেকে আল্লাহ হেফাজত করুক, আমীন)

সদ্য বিবাহিতরা যা যা অবশ্যই এক্সট্রা সাথে রাখবেনঃ-

  • কাবিননামার মূলকপি + ফটোকপি
  • ন্যাশনাশ আইডিকার্ড/পাসপোর্ট এর ফটোকপি। সম্ভব হলে মূল কপিও সাথে রাখবেন
  • জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি

বি.দ্রঃ কোন গার্লফ্রেইন্ড বয়ফ্রেইন্ড ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমার লেখার সাহায্য নিবেন না দয়া করে। কেননা, আমি চাই না, কোন অবৈধ সম্পর্কের মানুষ আমার কাছ থেকে সাহায্য পাবে ।

ভ্রমণ বিস্তারিতঃ-

সায়েদাবাদ থেকে সৌদিয়া পরিবহণের ৫ টা টিকিট কাটলাম এক সপ্তাহ আগেই। কারণ একদিকে ফেব্রুয়ারী মাস আরেকদিকে ৯ তারিখ ছিল বৃহঃপতিবার। যেহেতু ফ্যামিলি নিয়ে যাবো সেহেতু সামনের থেকে ২য় এবং তৃতীয় সিট বুকিং দিলাম। আমরা ৩ জন ছিলাম আর আমার সাথে আরেক ভাইয়ের যাওয়ার কথা ছিল তার প্রিয়তমাকে নিয়ে। কিন্তু ভাগ্যের খেলায় সে যেতে পারে নাই। যার কারণে দুইটা টিকেট ফিরিয়ে দিয়ে ৩ টা নিশ্চিত করেছিলাম। :)৯ ই ফেব্রুয়ারী রাত। আকাশটা ছিল জোৎন্সাময়। পাশে আমার প্রিয় অর্ধাঙ্গীনী। 🙂 রাত ১০ টায় বাস ছাড়লো সায়েদাবাদ ঘাট থেকে। কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কেননা প্রায় ১১ দিন আগে থেকে আমার টুনিকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার প্লান করেছি। সেই সপ্নটা পূরণ হতে চলছে। পাশাপাশি চাঁদনি রাত জার্নিটা আরো মায়াবি করে তুলেছিল। আমার সেতির ছোট ভাই আমাদের পিছনের সিটে বসেছিল। রাত ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত জ্যামে ছিলাম। যার কারণে কক্সবাজার গিয়ে সকাল ১০:৩০ টার দিকে নামতে হয়েছে। বাস থেকে সুগন্ধাবিচের কাছে নামলাম।
আগে থেকে হোটেল বুকিং দেই নাই। কেননা, অনলাইনে বুকিং দিলে দরদাম করা যায় না। ফলে অনেক খরচ শুধু হোটেলে থাকতেই শেষ হয়ে যায়। আমার চিন্তা ছিল, সারা বছর তো একটা বালিশ নিয়ে ঘুমিয়েই শান্তি পাই :p তাইলে দুই দিনের সফরে বের হয়ে আবার সেভেন স্টার, এসি খুুঁজুম ক্যারে…………… :p যাই হোক নেমেই পড়লাম দালালের খপ্পরে। :/ কোনভাবেই পিছু ছাড়ে না। তাদের একটাই কথা “মামা, রিকশা ভাড়া দেওন লাইগতো নো, আন্নের বাজেটের মইধ্যেই হোটেল ঠিক কইরা দিমু” । কি বিপদ। আমি নাছড় বান্দা। দালালের দিকে একবারের জন্যও তাকাই নাই।
এক হাতে ব্যাগ আর অপর হাত দ্বারা সেতিকে শক্ত করে ধরে সামনের দিকে চলতে লাগালাম। কেননা, এই জায়গায় আরো দুইবার এসেছি। জায়গাটা আমার চেনাজানা। আর আমার উদ্দেশ্য ছিল কমদামে ভাল একটা হোটেল ঠিক করা। ভ্রমণে বের হয়ে বিলাসিতা করতে কোন হিসাবের প্রয়োজন নেই। যারা ফাইভস্টার, থ্রিস্টার, সেভেনস্টার হোটেলে থাকতে চান তারা আমার আর্টিকেল থেকে দুরে থাকুন। হিসাবেরর প্রয়োজন তখনই, যখন আপনি চাইবেন একটু কমদামে, সস্তায় ভালোভাবে থাকতে। সুগন্ধাবীচের রাস্তার পরবর্তী “মোহাম্মাদীয়া গেস্ট হাউজ” অথবা “K.F.C” এর পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে একটা রাস্তা গিয়েছে সেদিকে ঢুকলাম সেতিকে নিয়ে। কেউ চাইলে এর পরবর্তী রাস্তা দিয়েও যেতে পারেন। কেননা, এই জায়গায় হোটেল ভাড়া অনেক কম। তবে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন। ওখানকার ই একটা রিসোর্ট এ ডবল বেড ১২০০ টাকা চেয়েছিল। দরদাম করে ৮০০ টাকায় নিয়েছিলাম দুই দিনের জন্য ১৬০০ টাকা। হোটেলের মালিক খুবই অন্তরিক এবং সবদিক থেকেই সার্ভিসটা আমার বাজেটের টাকার মধ্যে খুব ভালো ছিল।
আরেকটা কথা, ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ থেকে শুরু করে জানুয়ারী মাস পুরোটাই হচ্ছে ট্যুরিস্টদের জন্য। তবে ফেব্রুয়ারী মাসে তুলনামূলক অর্ধেক ভিড় থাকে। যার কারণে একটু ভিতরের দিকে আপনি দরদাম করে অনায়েসেই খুবই কম খরচে ভালো মানের রুম ভাড়া করে নিতে পারেন।
বেড
আরেকটা বেড
যদি কেউ আপনার বন্ধুদের নিয়ে যেতে চান, তাহলে এই দুই স্থানের মধ্যে হোটেল ভাড়া নিবেন। আমি এই পর্যন্ত তিনবার গিয়েছি এবং এদিকটাতেই ছিলাম। ডবল বেডে অনায়েসেই ৬ জন ঘুমানো যায়। তাহলে খরচটা খুব কম হবে। ৮০০/৬=১৫০ একদিন জনপ্রতি খরচ। 😀 আর ফ্যামিলি নিয়ে গেলেও প্রবলেম নাই। যদি স্বামী-স্ত্রী যেতে চান তাহলে সিঙ্গেল রুম ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে নিতে পারবেন। এছাড়াও বর্ষার সময়ে এই দিকটাতে ডবল বেড ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে নিতে পারবেন।
যাইহোক হোটেল তো হলো। এখন দুশ্চিন্তা খাওয়া-দাওয়া নিয়ে। কেননা, কক্সবাজারে অধিকাংশ হোটেলেই গলা কেটে দেয় 😛 আপনার এর থেকে বাঁচতে হলে “আল বোগদাদিয়া রেস্তোরা এন্ড বিরিয়ানী” তে চলে যান। এটা “মোহাম্মাদীয়া গেস্ট হাউজ” অথবা “K.F.C” এর পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে যে রাস্তা গেছে সেদিকে একটু এগোলেই হাতের বাম পাশে পাবেন। দাম খুবই সস্তা। খাবারের মান আমার কাছে ভালো লেগেছে। গরুর গোস্ত দিয়ে একজনের ভাত+ডাল+সালাদ= ৮০ টাকা। এছাাড়াও আলু ভর্তা, ডিম, দেশী শাক, মাছ সহ আরো অনেক কিছুই পাবেন একদম সস্তায়। ভাত এবং ডাল আনলিমিটেড খেতে পারবেন যে কোন প্যাকেজের সাথে। আলু ভর্তা + ভাত+ ডাল+ সালাদ-=৩০ টাকা। শাক+ভাত+ডাল+সালাদ=৪০ টাকা। ডিমের দাম একই রকম। কেউ ইচ্ছা করলে তরকারী শেয়ার করে খেতে পারবেন। যেমন, একজনের জন্য গরুর গোস্ত নিয়ে দুইজন ভাগ করে খাবেন। এমন যদি কেউ করতে চান, তাহলে শুধু ভাতের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ একজন গরুর গোস্ত দিয়ে খেতে লাগে ৮০ টাকা । আর যদি দুইজন একজনের গোস্ত ভাগ করে খান তাহলে অতিরিক্ত ২০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকার মধ্যে দুইজন খুব ভালোভাবে খেতে পারবেন। তাহলে গরুর গোস্ত দিয়ে জনপ্রতি খরচ পড়বে মাত্র ৫০ টাকা। যা কক্সবাজারে অকল্পনীয়ই বলা যায়। এমনিভাবে মাছ, শাক ইত্যাদী সব কিছুই শেয়ার করে খেতে পারবেন।
আল বোগদাদিয়া রেস্তোরা এন্ড বিরিয়ানী
এই রেস্তোরাটা কক্সবাজারে অনেক জনপ্রিয়। বিশেষ করে সেখানকার স্থানীয় লোকজন, বাসের ড্রাইভার, স্টাফ এবং ব্যাবসায়ীদের কাছে। সকাল থেকে রাত ১:০০ পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণ ভিড় লেগেই থাকে। আর এই হোটেলটা সারারাত খোলা থাকে। কেননা, প্রতিদিন সকালে যে সকল গাড়ী সেন্টমার্টিনের যাত্রী নিয়ে টেকনাফ যায়, সেসকল যাত্রীর সাকালের নাস্তার পার্সেল বাসের স্টাফরা এখান থেকেই নেয়। যা আমি নিজেই দেখেছি।কেননা, সেন্টমার্টিন যাওয়ার দিন আমার গাড়ী ছিল সর্বশেষ গাড়ী। আমার আগে যেসকল গাড়ী গিয়েছিল সকল গাড়ীর স্টাফরাই এই রেস্তোরা থেকে পার্সেল নিয়েছিল। ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন সবুজ রংয়ের পার্সেল বক্স রাখা আছে।রেস্তোরার স্টাফদের ব্যাবহার খুবই অমায়িক। আমি সন্তুষ্ট হয়েছি তাদের আচরণে। স্থানীয় যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই হোটেলটা দেখিয়ে দিবে। এছাড়াও আপনি যদি মিডিয়াম লেভেলের খরচে করে খেতে চান without বাটপারি। তাহলে সুগন্ধাবীচের প্রবেশ পথে একটু এগোলেই হাতের ডান পার্শে লাল রং করা একটি হোটেল পাবেন।(নাম ভুলে গেছি)। সেখানে খেতে পারেন। খাবারের মান ভালো তবে দাম একটু বেশী। শেয়ার করে খেতে পারবেন না। তবে এক ডিশ ভাতের দাম ৫০ টাকা। যা দিয়ে দুইজন খেতে পারবেন। মাছ, গোশত, ডিম সব কিছুর দাম ই বোগাদাদিয়া থেকে বেশী। পানিও কিনে খেতে হবে। তবে ভালো। এখানে খেতে হলে অবশ্যই পূর্বে দাম জিজ্ঞাসা করে খাবেন। তবে আমি বোগদাদিয়াই সাজেস্ট করবো।
আর যদি কেউ আনলিমিটেড টাকা খরচ করে খেতে চান। তার জন্য সজেস্টের প্রয়োজন নাই 😛 যে কোন নামিদামি রেস্টুরেন্টে বসে পড়ুন>দাম জিজ্ঞাসা না করেই খান>খাওয়ার পরে বিল দিয়ে চলে আসুন 😛 😛 😛
থাকা+খাওয়া নিশ্চিত হলাম। এবার ঘোরাঘুরি করার পালা। আমি ১০ তারিখ এবং ১১ তারিখ দুই দিন কক্সবাজার থাকবো। যার কারণে আমার হাতে তেমন সময় ছিল না। কেননা, সেন্টমার্টিন আমাদের তিন দিন থাকার ইচ্ছা। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, যারা কক্সবাজার সেন্টমার্টিন দুই জায়গাতেই ঘুরতে চান, তারা অবশ্যই কক্সবাজারে আগে যাবে। ভুলেও সেন্টমার্টিন আগে যাবেন না। কেননা, সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্যের কাছে কক্সবাজার কিছুই না। অর্থাৎ তাহলে কক্সবাজার আর আপনার ভালো লাগবে না। 🙂
যেহেতু আমরা দুই দিন থাকবো, সেহেতু প্রথমেই বোগদাদিয়া থেকে সকালের নাস্তাটা সেরে নিলাম। রুমে একটু ফ্রেস হয়ে বের হয়ে পড় লাম কক্সবাজার সি-বিচে গোসলের উদ্দেশ্যে। তখন সকাল প্রায় ১১:৩০ মিনিট। আমরা দুপুর ১:৩০ মিনিট এর মধ্যেই আবার সি-বিচ থেকে হোটেলে ফিরে আসলাম। কেননা, সময় খুব কম। দ্রুত দুপুরের খাবার খেয়ে এবং যাবতীয় কাজ সেরে ৩:০০ টার দিকে বের হয়ে পড়লাম দরিয়ানগর ও হিমছড়ির উদ্দেশ্যে।
যারা কক্সবাজার থেকে দরিয়া নগর বা হিমছড়ি যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা কখনোই অটো রিকশা রিজার্ভ ভাড়া করবেন না। যদি আপনি বেশি খরচ করে ঘুরতে চান তাহলে সমস্যা নেই 😀 তাহলে শুধু অটো কেন, একটা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করেও যেতে পারেন 😉 আপনার ইচ্ছা।
কলাতলী, ডলফিন মোড় থেকে দরিয়া নগর ১০ টাকা করে অটো রিকশা লোকালে যায় এবং কেউ যদি আগে হিমছড়ি যেতে চান তাহলেও ওই একই অটোতেই আপনি ২০ টাকা করে হিমছড়ি যেতে পারবেন। কলাতলী মোড় থেকে দরিয়া নগর ১০ টাকা এবং হিমছড়ি ২০ টাকা লোকাল ভাড়া। সুতরাং কেন আপনি ৩০০ টাকা দিয়ে অটো রিজার্ভ করবেন?
আমিতো রিসোর্ট থেকেই বের হয়েই দেখি এক অটো মামা আমাকে খুব অদরের সাথে ডাকছে। 😀 আমিতো মহাখুশি , হাজার হলেও মামা মানুষ ফ্রি অফার না যে করে বসে যে, মামা চলেন আপনারে ফ্রি দরিয়ানগর দিয়া আসি 😛 :p :p তারপরেও প্রথমে জিগাইছিলাম “মামা দরিয়ানগর কত?” মামাতো অদর কইরাই কইছিল ৩০০ টাকা 😀 আমি বললাম ৫০ টাকায় যাইবা :p বেচারা মামা ভাগিনার সম্পর্কচ্ছেদ করেই চলে গেল :p
সুগন্ধা বিচ থেকে কলাতলী ৫ টাকা ভাড়া আর সেখান থেকে দরিয়ানগর ১০ টাকা। যেহেতু আমরা তিনজন তাই মামা হিসেবে ১৫+৩০=৪৫………….. ৫ টাকা বাড়ায়া বলছিলাম :p
যাইহোক ৩:৪৫ মিনিটে আমরা দরিয়ানগর পৌছলাম। সেখানে ৪:৪৫ মিনিট পর্যন্ত ছিলাম। কেননা, হিমছড়ি থেকে সূর্যাস্ত দেখতে হবে যে 😀
দরিয়ানগর পাহাড়ের উপর থেকে
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, এই সময়ে দরিয়া নগর নামাজ না পড়ে দ্রুত চলে যান হিমছড়িতে। সেখানে সুন্দর মসজিদ+অজু এবং টয়লেটের ব্যাবস্থা আছে।
দরিয়া নগর থেকে হিমছড়ি ১০ টাকা করে জনপ্রতি । কিন্ত সংগত কারণেই আমার ১৫ টাকা করে দিতে হয়েছিল। কেননা, সূর্য ডুবে যাচ্ছিল + মানুষ ছিল না যাওয়ার মত তেমন।
হিমছড়ি গিয়ে প্রথমে নামাজ পড়ে নিলাম মসজিদ থেকে। এবার সিড়ি দিয়ে পাহাড়ে ওঠার পালা। আমরা উঠতে উঠতে মাগরিবের সময় হয়ে গিয়েছিল। আমরা সূর্যাস্তটা দেখতে পারি নাই 🙁 তাই যারা একই দিনে এই দুই স্পট ঘুরতে চান এবং হিমছড়ি পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত দেখতে চান, তারা অবশ্যই দুপুর ২ টার মধ্যেই রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে পড়বেন 😀
সূর্যাস্ত না দেখতে পারলেও আমার জীবনের প্রথম পাহাড়ের বুকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখেছিলাম 🙂 সে কি মায়াবী তার রূপ। ইচ্ছে হয়েছিল সারারাত এখানেই থেকে যাই। পাহাড়ের গা সেদিন পূর্ণিমার আলোর জোয়ারে ভেসেছিল। সাগরের প্রতিটা ঢেউ যেন সোনালী আভায় ঢেকে গিয়েছিল। প্রতিটা ঢেউ যেন পূর্ণিমার রূপ আরো মায়াবীভাবে সাজিয়েছিল। এক পার্শে পাহাড়ে জোৎনার ঢল আর অপর দিকে সাগরের ঢেউয়ে পূর্ণিমার রূপ। সে এক অপরূপ জগৎ।
সূর্যাস্তের পরের মূহুর্ত। হিমছড়ি পাহাড় থেকে

হিমছড়ি পাহারের বুকে পূর্ণিমা
সন্ধ্যায় আমরা একটু দেরী করেই নামলাম। মাগরিবের নামাজ শেষ ওয়াক্তে পড়েছিলাম। আসার সময় তেমন মানুষ ছিল না। তাই অটোভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা করে কলাতলী আসতে হয়েছিল। কলাতলী নেমে সরাসরি সাগরের পাড় দিয়ে ২ ঘন্টা হাটলাম এবং ১ ঘন্টা বসেছিলাম।
পূর্ণিমা রাতে সাগর কতটা মায়াবী এবং হৃদয়গ্রাহী হয়ে যায় তা কেউ না হাটলে বুঝবেন না। তারপরে সি-বিচের মার্কেট গুলো ঘুরতে ঘুরতে কখন যে রাত ১২ টা বেজে গিয়েছিল, তা বুঝতেই পারিনি।

দোকনের পন্য

সব মেয়েদের জিনিস পত্র 🙁

ছেলেদের জন্য শুধু চকলেট ই আছে 😛
পরের দিন খুব সকালে আমরা ৬ নং ঘাটে গেলাম। আমাদের প্লান ছিল সোনাদিয়া দ্বীপ যাবো। কিন্তু ৬ নং ঘাটে যাওয়ার পরে সোনাদিয় দ্বীপ যাওয়ার জন্য অন্য কোন গ্রুপ পাই নাই। আর স্পিডবোড ভাড়া চেয়েছিল ৫০০০ টাকা। যার কারণে ফিরে এসেছিলাম। ফিরে এসে সকালের নাস্তা করে। ইনানী যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। আমি ইনানী যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত রিকশা খুজেছিলাম। কেননা, ইনানী যাওয়ার রাস্তা অর্থাৎ মেরিন ড্রাইভ রাস্তাটা সত্যিই অসাধারণ। তাই যত খোলামেলা গাড়িতে যাওয়া যায়, ততোই আপনি প্রকৃতির সৌন্দয্য উপভোগ করতে পারবেন। অনেক বন্ধুরা এক সাথে গেলে জীপ ভাড়া করে যেতে পারেন। আরোকটা ব্যাপার হচ্ছে, ইনানীতে যেই গাড়ীতে করে যাবেন, সেটা নিয়েই ফিরতে হবে। তাই যাওয়া আসার ভাড়া এক সাথে বলে তারপর উঠবেন। আমরা অটো নিয়ে গিয়েছিলাম। যাওয়া আসার ভাড়া অনেকেই ১০০০-১২০০ টাকা চেয়েছিল। দরদাম করে যাওয়া-আসা ৬০০ টাকা দিয়ে একটা ঠিক করলাম। অটো চালক অনেক ভালো ছিল। রাস্তার মাঝে পছন্দনীয় কোন যায়গায় নামতে চাইলে সে সময় দিয়েছে। সবচেয়ে ভালো হবে আপনি অটো চালককে কিছু বকশিশ দিয়ে রাস্তার যেখানে খুশি সেখানেই নেমে একটু সময় কাটালে। তবে ২ থেকে ৩ মিনিট এর বেশী নিবেন না। কারণ আপনার কাজ শেষ করে তাদের আরেকটা কাজের জন্য যাত্রী খুজতে হবে।
হিমছড়ি গিয়ে যারা কৃত্রিম ঝর্ণা দেখে দিশেহারা হয়েছেন। তারা এই ঝর্ণাটি দেখতে ভুল করবেন না। এটা দরিয়া নগর থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে রাস্তার বাম পাশে। হিমছড়ির আগে অবস্থিত। যদি আপনি হিমছড়ি সকালের দিকে যান। তাহলে তখনই এটা দেখে নিতে পারেন। কিন্তু আমরা ইনানী যাওয়ার পথে আমাদের অটো চালক মুস্তাফিজ চাচা এখানে অটো থামিয়ে আমাদের ৫ মিনিট সময় দিয়েছিলেন। শীতের সময়। তাই ঝর্ণার পানি খুব কম।

ঝর্ণা
ইনানী যাওয়ার সময় রেজু খালের ব্রীজে একটু সময় দিতে ভুলবেন না।

রেজু খাল ব্রীজ। অসম্ভ সুন্দর একটা জায়গা

অটো চালক। মুস্তাফিজ চাচা । অসম্বভ ভালো মানুষ
ইনানী থেকে আমাদের ফিরতে ফিরতে দুপুর ১ টা বেজেছিল। দুপুরে ফ্রেস হয়ে, খাওয়া দাওয়া করে ৪ টার দিকে বেরিয়ে পড়ি। উদ্দেশ্য ছিল ঝাউবন টা ঘুরে বিকেল টাইম টা বিচে কাটাবো। ঝাউবন গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কেননা, আমরা টুরিস্টরা ময়লা, আবর্জনা ফেলে জায়গাটা নষ্ট করে রেখেছি। যা খুবেই দুঃখ জনক।

ঝাউবন। আমাদের কারণে পরিবেশ বিপন্নের পথে
আমাদের ৫ দিনের সফরে আমরা একটা চকলেটের প্যাকেটও কেথাও ফেলে দেইনি। সব আমার কাধের ব্যাগের মধ্যে রেখেছিলাম এবং রিসোর্টের রুমে গিয়ে রুমের ময়লার ঝুড়ির মধ্যে ফেলেছি।
এই দেশ, মাটি, প্রকৃতি সবই আমাদের জন্য। সুতরাং আমরা যেন এমন কোন কাজ না করি যার মাধ্যমে আমাদের এই সুন্দর প্রকৃতি তার সৌন্দর্য্য হারায়। আমাদের কারণে দিনে দিনে আমাদের পরিবেশ যে কতটা ভয়ংকরভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তার উদারণ একটু পরে দিচ্ছি। মনে রাখবেন, অন্য কেউ পরিবর্তন হোক বা না হোক, আপনি পরিবর্তন হন, আপনি আপনার পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, চকলেটের প্যাকেট ইত্যাদী যেখানে সেখানে ফেলে না দিয়ে রুমে গিয়ে ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। তাহলে অন্তত একজনের থেকে হলেও আমাদের পরিবেশ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ফলস্বরূপ এমনও হতে পারে যে, আপনাকে দেখে আরো দশজনও পরিবর্তন হয়ে গেছে। সুতরাং সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করুন।

বিকেলের সুগদ্ধাবীচ
সন্ধ্যায় গিয়েছিলাম বার্মিজ মার্কেট। পুরাতন বার্মিজ মার্কেটে এখন তেমন মানুষ যায় না। কারণ, বার্মারা দাম ছাড়ে না। ৬ বছর আগে যখন বার্মিজ মার্কেটে গিয়েছিলাম এই একই সময়ে তখন ক্রেতার এতো ভিড় ছিল যে, ঠিক মত হাঁটাই কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন মার্কেট পুরাই ফাঁকা। কেননা, সুগন্ধা বিচের মার্কেটে নতুন বার্মিজ মার্কেট হয়েছে। েএছাড়াও বিচে অনেক দোকানেই এখন বার্মিজ পন্য পাওয়া যায় অনেক কম দামে। (পুরাতন মার্কেটের চেয়ে কম)। আর এসব মার্কেটে বেশীরভাগেই আমাদের বাঙ্গালী ভাইয়েরা পরিচালনা করে। সুতরাং পুরাতন বার্মিজ মার্কেটে না যাওয়াই ভালো। আমরা গিয়ে পরে অনেক আফসোস করেছি যে, কেন গেলাম!
বার্মিজ মার্কেট থেকে ফিরে পরের দিনের সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য টিকেট বুকিং দিলাম। সাথে টেকনাফ যাওয়ার বাসের ভাড়াও দিয়ে দিলাম। আপনার যারা কক্সবাজার আর ফিরে আসবেন না, তারা শুধু যাওয়ার ভাড়া দিবেন। ২০০ টাকা চায়। দরদাম করে ১৫০ তে নামিয়ে আনতে পারবেন। আমরা এম.ভি. বাঙ্গালীতে মেইন ডেক এর টিকিট কেটেছিলাম। যাওয়া-আসা ৫৫০ টাকা। এম.ভি. বাঙ্গালী অনেক বড় জাহাজ। কেয়ারীর ৩ গুন বড়।
বিচে ছিলাম রাত ১০ টা পর্যন্ত। এই দিন বেশি ছিলাম না । কেননা, পরের দিন সেন্টমার্টিন যেতে হবে। খুব ভোরেই উঠতে হবে। রাতেই সব কিছু গুছিয়ে রাখলাম। সকালে টেকনাফের গাড়ীতে উঠে পরলাম। আমি আগের দিন সকালের নাস্তার টাকা অতিরিক্ত দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কোন একটা ভুলের কারণে সকালের নাস্তাটা আমাদেরকে গাড়ীতে দেই নি। আপনার যথাসম্ভব সকাল বেলা রেস্টুরেন্ট থেকেই খেয়ে নিবেন। কেননা, খুব সকালেই কক্সবাজারের রেস্টুরেন্ট গুলো খোলা থাকে।
এম.ভি. বাঙ্গালী আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। আপনিও যেতে পারেন। মনে রাখবেন, জাহাজের টিকেট মেইন ডেক ই ভালো খরচ কম। কেননা, জাহাজ ছাড়ার পরে আপনি সব জায়গাতেই যেতে পারবেন। জাহাজ ছাড়ার পরে সব ছিট ই খালি । আর তাছাড়া সিটে কেউ বসে থাকে না। সবাই বারান্দায় দাড়িয়ে থাকে।
আমরা পুরোটা সময়েই জাহাজে দোতলার সামনের খালি জায়গাতে বসে এবং দাড়িয়ে ছিলাম। জাহাজে গেল যেই দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশী মনমুগ্ধকর, সেটা হচ্ছে অতিথি পাথি দেখা। যা ট্রলারে গেল হয়তো দেখতে পাবেন না।
অতিথি পাখি

জাহাজ থেকে মাছের নৌকা
জাহাজের বয়। যারা সারাদিন না থেয়ে থাকে কিছু টাকা ইনকাম করে মায়ের ঔষধ কিনবে এ কারণে
সেন্টমার্টিন জাহাজ ঘাট (জেটি)
জাহাজ ঘাটের দক্ষিণ পার্শ্ব
আমরা দুপুর ১২ টার দিকে জাহাজ থেকে নেমেছিলাম। আমি আগেই হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম। যার কারণে আমি পরবর্তীতে অনেক অাফসোস করেছি। কেননা, ফেব্রুয়ারীতে সেন্টমার্টিনে আগে থেকে হোটেল বুকিং না দিয়েও আপনি সেখানে গিয়ে আপনার যে কোন বাজেটের মধ্যেই খুব ভালো মানের হোটেল পাবেন। সর্বদা চেষ্টা করবেন জেটির কাছাকাছি কোন হোটেল ভাড়া নেওয়ার জন্য। জেটির কাছেই একটু ভিতরের দিকেই আপনি ফেব্রুয়ারী মাসে ৫০০ – ৮০০ টাকার মধ্যে ডবল বেডের রুম পাবেন। কিন্তু আমরা আগে থেকে বুকিং দেওয়ার কারণে সেই সুযোগটা পাইনি। তবে আমাদের বেশী লাগেনি। ১০০০ টাকা করে ছিলাম ডবল বেড এ।
সেন্টমার্টিনে খাওয়া-দাওয়া করতেই অনেক বেশী খরচ করতে হয়। সবচেয়ে বেশী বিরক্তিকর হচ্ছে ওখানে আপনি রান্না করা মাছ পাবেন না। তবে রান্না করা মুরগী পাবেন। হাজার হলেও সেন্টমার্টিন মাছের দেশ। সেখানে কেউ মুরগী খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাবেন না। যত পারেন বিভিন্ন রকমের মাছ খেয়ে আসুন। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সব যায়গায় দাম অনেক বেশী আর কক্সবাজারের মত শেয়ার করে খেতে পারবেন না।
তবে একটা মানুষ যার কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন সিরাজ চাচা। Travelers of Bangladesh গ্রুপ থেকে সিরাজ চাচার ব্যাপারে জানতে পেরেছিলাম। জেটি থেকে নেমেই উত্তর দিকে (জেটির পাশেই) তার হোটেল “সিরাজগঞ্জ ভাত ঘর”। চাচা কক্সবাজারের বাসিন্দা। তার নাম সিরাজ তাই নামের সাথে মিল রেখেই হোটেলের নাম দিয়েছেন।
চাচা হোটেলে আপনি রান্না করা মাছ পাবেন। রান্নাটাও বেশ ভালো। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, যেকোন মাছ দিয়েই চাচার হোটেলে ১০০ টাকার মধ্যে খেতে পারবেন। যেখানে অন্যান্য হোটেলে মাছভেদে একেক মাছের একেক দাম। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আপনি চাচার হোটেলে শেয়ার করে খেতে পারবেন। মানে অতিরিক্ত ভাতের জন্য ৩০ টাকা দিলেই একটা মাছ দিয়ে দুইজন ১৩০ টাকার মধ্যে খুব ভালো করে খেতে পারবেন। যেখানে অন্য কোন হোটেলে আপনি খেতে চাইলে দুইজনে কমপক্ষে ২৪০ টাকা লাগবে। চাচার ব্যাবহার অত্যন্ত ভালো এবং খুবই সরল প্রকৃতির লোক। বন্ধুরা মিলে ঘুরতে গেলে এখানে খেতে পারেন। আর কেউ খরচ কম করতে চাইলেও এখানে খেতে পারেন।
যাই হোক, আমরা দুপুরে ফ্রেশ হয়ে এবং একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া শেষ করেই পশ্চিম বীচ এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। আমার হোটেল পশ্চিম বিচের কাছে হওয়ার কারণে চাচার হোটেলে তেমন খেতে যেতে পারিনি। তবে ৩ বেলা খেয়েছিলাম। আমরা সেন্টমার্টিন ৩ দিন থাকার চিন্তা করে গিয়েছিলাম। ১২ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত।
যারা ৩ দিন থাকবেন তারা অবশ্যই প্রথমদিন পুরো সময়টা পশ্চিম বীচে এবং উত্তর বীচ ঘুরবেন।
পশ্চিব বীচ এবং উত্তর বীচটা ভাটার সময় অনেক ‍সুন্দর হয়। মূলত সেন্টমার্টিন এর পুরো দ্বীপটিই ভাটার সময় অনেক সুন্দর লাগে। কেননা, ভাটার সময় প্রবাল পাথর গুলো জেগে উঠে। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে পনি জমে থাকে । যেখানে ছোট ছোট মাছ ঘোরাফেরা করে। ভাগ্য ভালো থাকলে সামুদ্রিক কিউকোম্বার দেখাও পেতে পারেন পাথরের ফাঁকার মধ্যে।
আর যারা নামাজ পড়েন তারা অবশ্যই সাথে করে নামাজ পড়ার জন্য একটা পাতলা জায়নামাজ নিয়ে যাবেন। কেননা, আছরের নামাজ আপনাকে পাথরের উপরেই পড়তে হবে।
পশ্চিমবীচ। স্বচক্ষে না দেখলে বুঝবেন না আসল রূপ
পশ্চিমবীচ
মাছ ধরার ট্রলারে ছোট ভাই
আয়নার মত স্বচ্ছ পানি। আর ছোট ছোট মাছের ঘোরাফেরা
প্রবাল পাথরের উপরে হাঁটার জন্য অবশ্যই বার্মিজ স্যান্ডেল কিনে নিবেন কক্সবাজার থেকে। কেননা, সেন্টমার্টিনে দাম একটু বেশী। প্রবাল পাথর প্রচন্ড রকমের ধারালো। বার্মিজ স্যান্ডেল ছাড়া হাঁটা অসম্ভব। স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে হাটলেও হাঁটার সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন। কেননা, পা একটু এদিক সেদিক ফসকে গেলেই সাথে পা কেঁটে যাবে।
প্রবাল পাথর
পাথরের ফাঁকে ফাঁকে সামুদ্রিক কিউকোম্বা এর দেখা পাবেন। এরা দেখতে জোঁকের মত। স্থানীয়রা জোঁক বলেই সম্বোধন করে। ওখানকার স্থানীয়রা এটা মাছের মত করে ভেঁজে খায়। তবে আপনারা এ কাজ করবেন না। কেননা, এই সামুদ্রিক কিউকোম্বা সমুদ্রের পানি পরিষ্কার রাখে।
সামুদ্রিক কিউকোম্বা
ভাটার সময় ওখানকার স্থানীয় ছোট ছোট বাচ্চারা প্রবাল সংগ্রহ করে। তবে আমাদের উচিৎ তাদের কাছ থেকে তা না কিনে আনা। কেননা, একবার ভেবে দেখুন, আমার যদি প্রত্যেকেই একটা করে প্রবাল নিয়ে আসি তাহলে একটা সময় হয়তো সেন্টমার্টিন প্রবালশূন্য হয়ে পড়বে। আমি তাদেরকে বুঝিয়ে এসেছি যে, এগুলো সংগ্রহ করা ভালো নয়। তারাও যথেষ্ট ভদ্র। তারা বুঝেছে। ভবিষ্যতে করবে কি করবে না, তা তদের ব্যাপার।

ছোট বন্ধুরা। যারা প্রবাল কুড়ায় ভাটার সময়

জীবিত প্রবাল। কিন্তু ওরা বলে যে এটা মৃত।
পশ্চিমবীচেই রয়েছে সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কটেজ। সেখানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। শুধু গেইট থেকেই ঘুরে আসতে পারেন।
সমূদ্র বিলাসের গেইট
সূর্যাস্তফি :p
পশ্চিমবীচে রয়েছে অনেক ছোট ছোট মাছের দোকান যেখানে আপনি চাইলেই আপনার পছন্দের যে কোন মাছ খেতে পারেন। চাহিবামাত্রই ইহার ক্রেতাকে মাছ ভাঁজা খাওয়াতে বাধ্য থাকিবে। তবে কিছু খরচপাতি দিতে হবে । এই আর কি 😉 😛
তবে অনুরোধ যারা মুসলিম এবং হানাফী মাযহাব অনুসরণ করেন, তারা কাঁকড়া, লবস্টার, অক্টোপাস, স্টিংরে খাবেন না। কেননা, এগুলো খাওয়া মাকরূহে তাহরীমী। অর্থাৎ হারামের কাছাকাছি। সম্পূর্ণ হারাম নয়। মাকরূহে তাহরীমী থেকে বেঁচে থাকাই উত্তম।
চাহিবামাত্রই ইহার ক্রেতাকে মাছ ভাঁজা খাওয়াতে বাধ্য থাকিবে। তবে কিছু খরচপাতি দিতে হবে । এই আর কি 😉 😛
প্রথমদিন বিকালটা এভাবেই কাটলো। রাতে সুন্দরি মাছ ভাজা খেলাম আমার এক ভাইয়ের রিসোর্টে। সুন্দরী মাছ ভাজা। এরপর রাতের খাবার খেয়ে রাত ১০ টার দিকে বের হলাম আবার পশ্চিম বিচে। সেদিন ছিল ভরা জোৎন্সা। আমরা পশ্চিমবীচ দিয়ে জেটির দিকে হাটা শুরু করলাম। অর্থাৎ উত্তরবিচ দিয়ে জেটিতে যাবো। কেননা, রাতে জেটিতে মাছের নৌকা আসে মাছ নিয়ে।
জোৎন্সা রাতের সাগর অসম্ভব মায়াবী। ইচ্ছে করেছিল সারা রাত থেকে যাই। কিন্তু সাথে আমার সেতি আর তাছাড়া পরের দিন ছেড়া দ্বীপ যাবো হেঁটে হেঁটে যার কারণে সারারাত থাকলাম না। রাত ২ টা পর্যন্ত সাগরের পাড়ে হাটলাম + মাছ ধরার নৌকাতে বসে সময় কাটালাম। আমরা ছাড়া আর তেমন কেউ ছিলনা। তবে উত্তরবীচের কোল ঘেষে যে সকল রিসোর্ট ছিল, সে সকল রিসোর্টের সামনে কিছু লোকজন ছিল। তবে সেন্টমার্টিন পুরো দ্বীপই পর্যটকের জন্য নিরাপদ। তাই ভয়ের কোন কারণ ছিল না। সেই মুহুর্তগুলো আসলে লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তার সৃষ্টিকে এতো সুন্দর করে সাজিয়েছেন তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা সফর করতে বলেছেন।
২০১৪ তে আমি বর্ষার সময় যখন সেন্টমার্টিনে গিয়েছিলাম তখন ঝড়ের কারণে রাতে বের হইনি। যাইহোক, আমরা রাত ২ টার দিকে জেটিতে গিয়ে পৌছলাম। ইচ্ছাটা পূরণ হলো। দেখলাম একটা মাছের নৌকা তাদের মাছ গুলো জাল থেকে ছাড়াচ্ছে।
কারো যদি মাছ ভেজে খাওয়ার মত পরিবেশ বা উপায় থাকে তাহলে মাঝ রাতে জেলেদের কাছ থেকে খুব কমদামেই মাছ কিনে খেতে পারেন। এছাড়াও সেন্টমার্টিনের মাছের আড়ৎ থেকে আপনি যে কোন সময় মাছ কিনে নিয়ে সেটা ভেঁজে খেতে পারেবেন। দাম খুব সস্তা, সুন্দরী মাছ ২৫০ টাকায় ১ কেজি। যেখানে ৮-১০ টা মাছ পাবেন। যে মাছ আপনি কোন হোটেল বা বীচের ছোট দোকান থেকে কিনে খেতে চাইলে ১০০ টাকা প্রতিপিস হিসেবে কিনে খাওয়া লাগবে। কোরাল ৫৫০ টাকা। অন্যান্য মাছের দামও খুব কম।
ওইদিনের মত রিসোর্টে ফিরে গেলাম। পরদিন সকালবেলা ফ্রেশ হয়ে সকালের খাবার খেয়ে সকলা ১০:৩০ মিনিটে জেটি থেকে হাটা শুরু করলাম। উদ্দেশ্য ছেড়াদ্বীপ যাবো হেঁটে হেঁটে। সাথে যথারীতি আমার শ্যালক এবং সেতি। যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই সাথে করে খাবার, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং প্রয়োজনীয় সব কিছু সাথে নিয়ে বের হবেন।
জেটির কাছাকাছি যাওয়ার পরই স্পিডবোড ওয়ালার ধরলো যে ভাই ছেড়াদ্বীপ চলেন। আমি বললাম না ভাই, হেঁটে হেঁটে যাবো। এ কথা শুনে লোকটা মনে হয় আকাশ থেকে পড়লো । হয়তো মনে মনে ভাবেছ হুজুর মানুষ, ফইন্নি। টাকা পয়সা নাই, তাই হাইটা যাইবো :p
আসলে ব্যাপারটা তা ছিল না। ছেড়া দ্বীপ হেঁটে গেলে আপনি যে দৃশ্য উপভোগ করবেন । তা সারাজীবনেও ভুলবেন না। আসলে ছেড়াদ্বীপে স্পিডবোডে যাওয়ার মধ্যে কোন মজা নেই। সেন্টমার্টিনের পুরো দ্বীপটিই অনেক সুন্দর। প্রাকৃতিক কেয়াবন সেন্টমার্টিনকে অসম্ভব সুন্দর করে সাজিয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টি অনেক নিখুত। যা না দেখলে বুঝা সম্ভব নয়।
যারা ছেড়াদ্বীপ হেঁটে যেতে চান, তারা অবশ্যই জোয়ার ভাটা সম্পর্কে জেনে তারপর যাবেন। কেননা, ছোড়াদ্বীপ জোয়ারের সময় সেন্টমার্টিনের মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর ভাটার সময় হেঁটে যাওয়া যায়। যদি আপনি সেন্টমার্টিনের পূর্ব দিকের বিচ দিয়ে হেঁটে পশ্চিম দিকের বিচ দিয়ে ফিরে আসতে চান তাহলে অবশ্যেই খুব ভোরে বের হবেন। কেননা, তখন ভাটা থাকে। আর যদি যেদিক দিয়ে যাবেন সেদিক দিয়েই ফিরে আসতে চান তাহলে সকাল ১০:৩০ থেকে ১১ টার মধ্যে বের হবেন। কেননা, তাহলে সেন্টমার্টিনের শেষ স্থানে যেতে যেতে ভাটা শুরু হয়ে যাবে এবং আপনি হেঁটে যেতে পারবেন। যদি এর আগে বের হন তাহলে হয়তো শেয় সীমানায় গিয়ে নৌকা দিয়ে পাড় হতে হবে অথবা এক গলা পনি দিয়ে দারুচিনি দ্বীপের ভূখন্ডে উঠতে হবে।
ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার সময় এই নির্দেশনাটি পাবেন
ভিতরের রাস্তা। সাগরের কূল ঘেষে
সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড
এই রাস্তাটি দেখার পরে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম
কেয়াবন

কেয়া ফল
কেয়া ফল ছিড়ে সাথে করে নিয়ে যাওয়া অথবা ছিড়ে খাওয়া সম্পূর্ণই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং জ্ঞান থাকা অবস্থায় এ কাজ কেউ ভুলেও করবেন না। মনে রাখবেন, সেন্টমার্টিন এর প্রকৃতি রক্ষা করা আমাদেরই কর্তব্য।
ক্লান্ত শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়ার ব্যাবস্থা
আমরা বীচ দিয়ে দিয়ে হাটতে হাটতে যখন ক্লান্ত হয়েছি। তখন ই কেয়াবনের ছায়া বিশ্রাম নিয়েছি।

বিশ্রাম নিছিলাম :p
মাঝপথে স্থানীয়দের কাছ থেকে ডাব খেয়েছিলাম। দাম একটু কম ছিল দোকানের তুলনায়।
স্থানীয়দের বাসায় ডাব খাওয়ার সময় তাদের নারিকেল গাছে একটু জিরাইলাম :p

রাস্তাটিকে স্বর্গের রাস্তা উপাধি দিলে ভুল হবে না
সেন্টমার্টিন এর মাঝ বরাবর জায়গাটি একটু চাপা। যেখানকার দুইপাশেই সাগর। অর্থাৎ এক স্থানে দাড়িয়ে আপনি দুই দিকেই সাগর দেখতে পাবেন। অসাধারন এবং অসম্ভম সুন্দর জায়গাটি। ওই জায়গাটার নাম গলাচিপা।
গলাচিপার পূর্ব পার্শে দুইটি দোকান
পশ্চিম সাইড। ওইতো সাগর এপাশেও
গলাচিপা আসতে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত লেগেছিল। স্বাভাবিক ভাবে ১ ঘন্টা লাগে। কিন্ত আমরা খুব আস্তে আস্তে এসেছি। মাঝপথে বিশ্রাম করেছি, খেয়েছি। কেননা, আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল।
ভাগ্য ভালো থাকলে আপনি কচ্ছপের ডিম ও দেখতে পেতে পারেন। এই দ্বীপটি মূলত কচ্ছপদের ই ছিল। কিন্তু আমরা এখন দখল করে রেখেছি।
কচ্ছপের ডিম
কচ্ছপের ডিম ফুটানোর একটা হ্যাচারী আছে সেন্টমার্টিনে। কিন্ত সেটা পশ্চিম বিচে। কাছাকাছি হলে ডিমটি সেখানে দিয়ে আসতাম।
লাল বালুর বীচ
সেন্টমার্টিনের জেটি থেকে এই গাছটিকেই দেখা যায়। যে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে।
ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার আগে এবং সেন্টমার্টিনের মূল ভূখন্ডের পরের জায়গাটির নাম দারুচিনি দ্বীপ। এই দ্বীপে যাওয়ার পরে মনটা অনেক ভালো লেগেছিল কিন্তু পাশাপাশি অনেক কষ্টও লেগেছে। কেননা, এখান দুটি মৃত কচ্ছপের দেহ পড়েছিল। এমনকি দুটি সামুদ্রিক মাছ (দেশীয় ভাষায় পোটকা মাছ) মৃত পড়েছিল সাগরের পাড়ে। আমাদের কারণেই এই কচ্ছপ এবং মাছগুলো মারা যাচ্ছে।
আমরা যেখানে সেখানে চিপসের প্যাকেট, চকলেটের প্যাকেট, পানির বোতল, বিভিন্ন ধরনের কাগজের টুকরা, বিস্কুটের প্যাকেট ফেলে সেন্টমার্টিনকে দিন দিন ধ্বংসের মুখে ফেলে দিচ্ছি। আমরা যদি একটু সচেতন থাকি তাহলেই এই সুন্দর প্রকৃতিটা সুন্দর থাকতে পারে। একটা সময় ছিল যখন এখানে মানুষ বসবাস করতো না। তখন এখানে বিভিন্ন প্রকার সামিুদ্রিক প্রাণী এসে আশ্রয় নিত। সাপ, ব্যাঙ, কাকড়া বিশেষ করে কচ্ছপ । এ সকল প্রানী তাদের বংশ বিস্তার এর জন্য ডিম পাড়তো এবং থাকতো। কিন্তু আজকে আমরা তাদের স্থান থেকেই তাদেরকেই তাড়িয়ে দিচ্ছি। শুধু তাড়িয়েই দিচ্ছি না, বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা, প্যাকেট, বোতল ফেলে রেখে এ সলক প্রাণীদেরকে নিজ হাতে হত্যা করছি।
মৃত সামুদ্রিক মাছ
মৃত কচ্ছপ
এতো এতো লেখালিখি, এতো সাবধান করার পরেও আমরা বিভিন্ন জায়গা নোংরা করতে একটুও কার্পন্য করি না। আমরা আসলে আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য্য দেখতে যাই না, আমরা যাই সে সকল জায়গা ধ্বংস করতে। একটা চিপসের প্যাকেট কি আমরা যেখানে সেখানে না ফেলে দিয়ে ব্যাগে করে রিসোর্টে নিয়ে এসে ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে পারি না? কি হবে এতা পড়াশুনা করে?
যাইহোক, আসুন আজ থেকেই আমরা নিজেকে পরিবর্তন করি। তাহলে হয়তো আপনার দেখাদেখি অপর আরেকজনও পরিবর্তন হবে।
সেন্টমার্টিনের মূল ভূখন্ডের সর্বশেষ জায়গা। মূলত ছেড়াদ্বীপ জোয়ারের সময় আলাদা হয়ে যায়। তাই এটাই শেষ জায়গা
আমরা যখন সেন্টমার্টিনের মূল ভূখন্ডের শেষ প্রান্তে আসলাম তখনও এখানে একটু একটু পানি ছিল। তখন দুপুর একটু বাজে। অসম্ভব সুন্দর ছিল জায়গাটি।
দারুচিনি দ্বীপ
দারুচিনি দ্বীপে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার চলতে লাগলাম ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে। আমার পিছনে যে ঝোপটি দেখতে পাচ্ছেন, সেটিই হচ্ছে দারুচিনি দ্বীপ। আর দূরে মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা যে গাছটি দেখছেন, সেটা ছোড়াদ্বীপের প্রথমাংশ।
পানি দিয়ে হেটে আসার কারণে জামা এভাবে গুটিয়ে রেখেছিলাম 😛 😛 😛
দারুচিনি দ্বীপ

দারুচিনি দ্বীপ
সে আমাকে রেখে চলে যাচ্ছে :p ছেড়াদ্বীপের প্রমাংশ
ছেড়াদ্বীপের প্রথমাংশ
ছোট্ট বন্ধুরা

ছেড়াদ্বীপের কিছু পরিশ্রমি বন্ধু তারা। ছোট বেলা থেকেই তারা পরিবারের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে থাকে।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন শামুক ঝিনুম কুঁড়ায় তারা। যা পরের দিন মালা বানিয়ে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে খুব কমদামে। সর্বোচ্চ ২০ টাকা । কিন্তু তারা যে পরিমাণ পরিশ্রম করে তার তুলনায় তাদের বানানো মালার দাম কিছুই না।

নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না যে, তারা কতটা পরিশ্রম করে ছোট্ট একটা মালা বানানোর জন্য। সেই সকাল বেলা বের হয়, সারাদিন না খেয়ে শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যায়। তাও বাংলাদেশের দক্ষিণের সর্বশেষ স্থান থেকে। যেখান জীবিত প্রবাল থাকে এবং বড় বড় ঢেউ হয়, সেখান থেকে তারা এসব সংগ্রহ করে।

আমার কাছে ব্যাপারটা খুব অবাক লেগেছিল, কেননা, আমরা সকালে বের হয়েছি ছেড়াদ্বীপের উদ্দেশ্যে কিন্তু মাঝপথে বিস্কুট, ডাব সহ আরো অনেক কিছুই খেয়েছি। তারপরেও ফিরে আসার সময় প্রচন্ড খুঁধা লেগেছিল। কিন্তু ওরা সারাদিনে কিছুই খায়নি। তারপরেও ওদের হাঁটার গতি আমাদের চেয়ে অনেক বেশী ছিল :/ :/

দয়া করে ওদের সাথে কেউ দরদাম করবেন না। কেননা, ওরা দাম বেশী চায় না। যদি ভালো লাগে কিনবেন। আর না লাগলে কিনবেন না।
ছেড়াদ্বীপের একটিমাত্র পরিবার
ছেড়াদ্বীপের একটি পরিবার এটা। তবে এখন আরেকটি পরিবারও শীতের সময় এখানে এসে বসবাস করে। তরে এই পরিবারটিই অনেক অগের এবং তারা স্থায়ী ভাবেই এখানে বসবাস করে। এখানের একটা সুবিধা হচ্ছে, আপনি যদি দুপুরের শুরুতেই এখানে এসে পৌছান তাহলে এখান থেকে আপনি মুরগী পছন্দ করে খেতে পারবেন। অর্থাৎ তাদের ওখানে অনেক মুরগী আছে, আপনি যেটা পছন্দ করবেন সেটাই তারা রেঁধে খাওয়াবে আপনাকে। তবে খরচপাতি তো কিছু করতেই হবে। হাজার হলেও দেশী মুরগী এবং বাংলাদেশের শেষ স্থান বলে কথা। 😀
একটিমাত্র পরিবারের দোকান
একটি পরিবারের একটি দোকন এটি। এখানে আপনি ডাব কিনে খেতে পারবেন। সেন্টমার্টিন বাজার থেকে বেশী দাম রাখে না। তবে এখানে ডাব আনতে অনেক পরিশ্রম এবং খরচ হয় তাদের। যার তুলনায় লাভ তেমন হয় না। এখানকার জীবন অনেক কষ্টের। আপনি একবার চিন্তা করে দেখুন তারা কত কষ্ট করে এখানে। জোয়ারের সময় তাদের ঘরের দুই পাশেই সমুদ্রের জোয়ার এসে আছড়ে পড়ে। বাজার অনেক দুরে। বিদ্যুৎ বলে সৌর বিদ্যুৎ আছে এখানে। ঝড়ের সময় কিভাবে তারা এখানে বসবাস করে তা আমার মাথায় আসে না 🙁
লবনের চাষ
ওখানে তারা এভাবেই লবণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরী করে খায়।
ছেড়াদ্বীপের দ্বিতীয় দোকান
ছেড়াদ্বীপের শেষ অংশে যাওয়ার রাস্তা। এবং সামনেই আরেকটি অস্থায়ী পরিবারের বসবাস।
ছেড়াদ্বীপ
ছেড়াদ্বীপ
ছেড়াদ্বীপ
ছেড়াদ্বীপ এর ট্রলার ঘাট এবং সবচেয়ে বড় পাথর
বাম পাশে স্পিডবোড বা ট্রলার ঘাট। যারা ট্রলারে আসে তারা ওখানেই ল্যান্ড করে :p আর ডান পাশে ঘন কালো একটা বস্তুর মত যা দেখছেন, সেটা হচ্ছে এই সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে বড় প্রবাল পাথর।
ছেড়াদ্বীপ
ছেড়াদ্বীপের সর্বশেষ অর্থাৎ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের সর্বশেষ জায়গা। জোয়ারের সময় এই জায়গাটি দেখতে পাবেন না। ভাটার সময় এ জায়গাটি দেখতে পারবেন। অত্যান্ত সুন্দর। যারা স্পিডবোড এ করে সকালের দিকে ছেড়াদ্বীপ যায় তারা এই জায়গাটি দেখতে পায় না।
ছেড়াদ্বীপ
এই পুরো জায়গাটিই পাথর। কোথাও একটি বালুকনাও নাই। মনে হয়েছে যেন পুরা জায়গাটাই একটা পাথরের বিছানা। পশ্চিমবীচে বা অন্য জায়গায় পাথরের ফাকে ফাকে বালু দেখা যায়। কিন্তু এখানে তেমন না। পুরোটাই পাথর।
ছেড়াদ্বীপ
পানির মধ্যে দেখতে পাবেন ছোট ছোট মাছ। আমরা লাল কাকড়া দেখতে পাই নাই।
ছেড়াদ্বীপ
ছেড়াদ্বীপ
ছেড়াদ্বীপ এর সর্বদক্ষিণস্থ জায়গা
সর্বদক্ষিনস্থ পাথরের উপরে যাওয়ার পথে।
ছেড়াদ্বীপ এর সর্বদক্ষিণস্থ জায়গা
বাংলাদেশের সর্বশেষ স্থান। এখানে রয়েছে অনেক জীবন্ত প্রবাল। আমি যে পাথরটির উপরে দাড়িয়ে আছি সে পাথরের নিচেই রয়েছে অনেক সাদা প্রবাল। শুনেছি সাদা প্রবাল নাকি জীবিত।
সর্বশেষ স্থানে ছবি তোলার পরপরই মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ভুলবশত এবারের সফরে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাইনি। যার ফলে ফিরে আসার সময় অনেক কিছুই মোবাইলের স্মৃতিতে রাখতে পারি নাই।
আমরা দুজন এই স্থানে প্রায় ২০ মিনিট বসে ছিলাম। (দুজনের ছবি দেওন যাইতো না 😉 :p ) ছেড়া্দ্বীপের শেষ স্থানে আমরা ২ ঘন্টার মত ছিলাম। অসম্ভব সুন্দর জায়গা। ফিরে আসার সময় দারুচিনি দ্বীপে বসে সূর্যাস্তটি উপভোগ করেছিলাম। সেন্টমার্টিনের জেটিতে আসতে আসতে রাত ৮ টা বেজে ছিল।
সেতিকে সাথে নিয়ে ছেড়াদ্বীপে হেটে যাওয়া এবং হেটেই ফিরে আসা আমার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে আল্লাহর ইচ্ছা এবং সেতির অধিক আগ্রহের কারণে সেটা সম্ভব হয়েছে। সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়াদ্বীপে হেঁটে যাওয়া আসা প্রায় ১৭ কিলোমিটারের মত।
রাতে আর কোথাও যাওয়া হয়নি। পরের দিন আমরা ঢাকা ফিরে এসেছি। তবে সকাল বেলা সেন্টমার্টিনে ভিতরের প্রকৃতি দেখার জন্য বের হয়েছিলাম। ভিতরের পরিবেশটা অস্বাভাবিক সুন্দর। আমিতো আরোকবার যাবো শুধু সেন্টমার্টিনের গ্রাম ঘুরতে আর পশ্চিম দিকটা ঘুরার জন্য।
ছেড়াদ্বীপ থেকে ফেরার পথেই টেকনাফ টু ঢাকা তুবা লাইনের টিকিট কাটলাম। সেন্টমার্টিন থেকেই ঢাকার টিকিট কাটা যায়। তবে যেদিন যাবেন সেদিনই টিকিট কেটে রাখবেন। তাহলে সিট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না। টেকনাফ থেকে ঢাকা ৯০০ টাকা টিকিট। সকল নন-এসি বাসেই একই ভাড়া।
সেন্টমার্টিনের গ্রামের মধ্যে এরকম অসংখ্য ছোট ছোট গর্ত দেখতে পাবেন। দেখানে মিষ্টপানি জমা হয়। যা ওখানকার স্থানীয়রা চাষাবাদের জন্য ব্যবহার করে। অনেকে খাবার পানি হিসেবেও ব্যাবহার করে।
গ্রামের রাস্তা।
কচ্ছপের হ্যাচারী
সেন্টমার্টিনের কচ্ছপের হ্যাচারি। যেখানে সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম ফুটানো হয়। এরপর সেই কচ্ছপের বাচ্চা সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পশ্চিম বীচ
পশ্চিম বীচ
ফুলটার নাম জানিনা। কেউ জানলে দয়া করে জানাবেন।
ছোট ছোট ছেলেরা সকাল বেলা মাছ রোদে শুকিয়ে শুটকি বানানোর জন্য মাছ রোদে দিতে ব্যাস্ত।
দুপুর ৩ টায় জাহাজ সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে যায় টেকনাফ এর উদ্দেশ্যে। সুতরাং চেষ্টা করবেন দুপুর ২ টা থেকে ২:৩০ মিনিট এর মধ্যেই জাহাজে উঠতে। কেননা, উঠার সময় অনেক ভীড় হয়।
সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসার সময় সূর্যটা শেষ সময়ে ঠিক এমনভাবেই নাফ নদীর বুকে মায়াবী আলোকচ্ছটা ফেলেছিল
কষ্ট করে এত বড় লেখা পড়ার জন্য আপনাদের কে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করলাম না 😛
– তাহমীদ হাসান

(59)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ ভ্রমণ কাহিনী

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > > > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon