জানা অজানা ব্যবসা সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্ন এবং উত্তর – ৭ | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
মুহাম্মাদ তাওহিদ গাজী

মোট এলার্ম : 158 টি

মুহাম্মাদ তাওহিদ গাজী

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট :

» আমার ফেসবুক :

» আমার টুইটার পাতা :


স্পন্সরড এলার্ম



জানা অজানা ব্যবসা সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্ন এবং উত্তর – ৭
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button

প্রশ্ন : আমার এক পরিচিতজন আছে, তার ভাগ্য খুব ভালো। খরিদ্দাররা তার দোকান ছাড়া কেনে না। আমার কেন যেন এ ব্যাপারে ভাগ্য খুব খারাপ।

উত্তর : এটা ভাগ্য নয়। এটা তার নিয়ত, তার দৃষ্টিভঙ্গি। আসলে একজন ব্যর্থ এবং সফল ব্যবসায়ীর মধ্যে পার্থক্য হলো-ব্যর্থ ব্যবসায়ী চিন্তা করে ‘কত দ্রুত লাভ করা যাবে’। আর সফল ব্যবসায়ী লাভ কম করে। সে তার ক্রেতার ওপর গুরুত্ব দেয়, যাতে এ লোকটি সবসময় এই দোকান থেকে কেনে। সফল ব্যবসায়ী অল্প লাভ করে বেশি জিনিস বিক্রি করে আর ব্যর্থ ব্যবসায়ী অল্প জিনিস বিক্রি করে বেশি লাভ করতে চায়।অল্প জিনিস বিক্রি করে আপনি যদি বেশি লাভ করতে চান তবে আপনার ব্যবসা টিকবে না। একবার ঠকবে, দুইবার ঠকবে, তৃতীয়বার ক্রেতা আর আপনার কাছে আসবে না। এ প্রসঙ্গে একজন সফল ব্যবসায়ী একবার বলছিলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে লাভ করতে চায়। বিক্রি করে আসলে লাভ করা যায় না। লাভ করতে হয় কেনার সময়।সন্তুষ্ট হলে আপনার ক্রেতারাই নতুন ক্রেতা নিয়ে আসবে। আর ক্রেতার সন্তুষ্টি নির্ভর করছে আপনার ওপর। এক তো হচ্ছে আপনার পণ্যের মান হতে হবে এমন যাতে ক্রেতা মনে করতে পারেন ভালো পণ্য কিনতে হলে আপনার দোকানই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আপনার কাছেই তাকে আসতে হবে। এই যে মামা পেঁয়াজু-প্রথম সে শুরু করেছিলো একটা টং দিয়ে। কিন্তু এখন শুধু পেঁয়াজু বিক্রি করে তার ঢাকা শহরে চারটা বাড়ি। কেন পেরেছে? ক্রেতার সন্তুষ্টি। যে কিনছে, সে নিজেকে প্রতারিত মনে করছে না। যেমন, এখনকার কিছু চাইনিজ জিনিসপত্র একবার কিনলে আর দ্বিতীয়বার কেনার ইচ্ছে হয় না। এর মধ্যে একজন এসে বললো, আট গিগাবাইটের পেনড্রাইভ একবার ঢোকালে আর দ্বিতীয়বার চলে না। চীনারা যে মার্কেট দখল করছিলো-এই দুই নম্বর কোম্পানিগুলো চীনাদের মার্কেটের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, আপনার দোকানে যদি আরো কর্মচারী থাকে, ক্রেতার প্রতি তাদের আচরণ কেমন হচ্ছে সেদিকেও আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, আপনার কর্মচারীরা কি ক্রেতাকে যথাযথ সম্মান দেয়? মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনে? আন্তরিকভাবে জিনিস দেখায়? কোনো কারণে ক্রেতা পণ্য কিনতে না চাইলে তাকে কি কটু মন্তব্য করে? দোকানে ক্রেতা এলে আপনি এবং আপনার কর্মচারীরা কি খুশি হন? শুকরিয়া আদায় করেন?

অতএব দোকানের বিক্রি বাড়াবার জন্যে এই বাস্তব পদক্ষেপগুলো নিন। সবসময় ইতিবাচক থাকুন। সাধ্যমতো দান করুন। দেখবেন, ভাগ্য আপনার অনুকূলে চলে আসবে।

12504529-packed-dollar-money-isolated-on-white-background
প্রশ্ন : আমরা দুজনে একটা প্রতিষ্ঠান চালাই কিন্তু আমার পার্টনার মাঝে মাঝেই বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে তাকে চতুর মনে হয়। আমি বেরিয়ে যেতে চাইলে সে হাত-পা ধরা শুরু করে। এরকম বেশ কয়েকবার হয়েছে। অনেকে আমাকে আলাদা প্রতিষ্ঠান করতে বলে এবং আমি জানি তা আমি পারবো। আপনি বলে দিন-আমি কী করতে পারি?
উত্তর : ‘পার্টনার মাঝে মাঝেই বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে তাকে চতুর মনে হয়।’ তার মানে পার্টনারের প্রতি আপনার আস্থা নেই। এটা না হলে তো আপনি পার্টনারশিপ বিজনেস করতে পারবেন না। কারণ পার্টনারশিপটাই হচ্ছে আস্থা বা বিশ্বাসের ব্যাপার।এ ব্যাপারে ‘বে-ইস্টার্ন’ গ্রুপের জাকি-মোশাররফ জুটি এক চমৎকার উদাহরণ। ৫০ বছর আগে প্রথম যখন শুনলাম জাকি মোশাররফ, আমি ভাবলাম ‘জাকি মোশাররফ’ মানে একজন। পরে যখন তাদের অফিসে গেলাম, দেখলাম-দুজন মানুষ। একজন জাকিউদ্দিন আহমেদ, আরেকজন মোশাররফ হোসেন। এত বিশ্বস্ত পার্টনারশিপ খুবই বিরল। একইসাথে ব্যবসা করছেন, যেখানে যান একসাথে যান। বাড়ি করেছেন, সেটাও পাশাপাশি এবং একই ডিজাইন। দাওয়াত করলেও দুজনকেই করতে হয়। কারণ একজনকে ছাড়া আরেকজন যান না। ১২ তম ব্যাচে দুজন একসাথে কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করেছেন। অর্থাৎ এটা হলো পার্টনারশিপ যে, আপনারা একে অপরকে সবকিছুতে সবসময়ই পাশে পাবেন। বিশ্বাস করতে পারবেন।পার্টনারশিপ গড়ার আগেই আপনাকে চিন্তা করতে হবে-যাকে আমি পার্টনার করছি তার সাথে আমি চলতে পারবো কি না। কারণ, যাকে বিশ্বাস করতে পারবেন না তার সাথে আপনার ব্যবসা বেশিদিন চলবে না। আজ হলেও ভাঙবে, কাল হলেও ভাঙবে।

যৌথ ব্যবসার ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে-আমরা এখনো সামন্তবাদী বা তালুকদারি দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করছি, সঙ্ঘের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলতে পারছি না। আমরা মনে করি-আমি আমার মতন বুঝি, আমি চলবো আমার মতো। আর এর ফলেই আমরা বড় কিছু করতে পারি না।

অথচ দেখুন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। ১৬০০ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হলো, তার দেড়শ বছর পর ১৭৫৭ সালে তারা এই উপমহাদেশ দখল করলো এবং ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশের ক্ষমতা হারালো।

অর্থাৎ একটা কোম্পানি ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত ১০০ বছর একটা উপমহাদেশ দখল করে থাকলো। কত প্রজন্ম এই কোম্পানি চলেছে আমরা খুব সহজে বুঝতে পারি। যারাই এই সঙ্ঘ-সংস্কৃতি অনুসরণ করেছে তারাই পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক হয়েছে।

প্রশ্ন : ভেবেছিলাম ব্যবসা শুরু করবো। কিন্তু আমার চেহারা দেখলে সবাই কেমন করে যেন বুঝে ফেলে-আমাকে ঠকানো যায়। কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।
উত্তর : যদি ব্যবসা করার যোগ্যতা থাকে আর আপনাকে দেখে যদি মনে হয় যে, আপনাকে ঠকানো যায় তাহলে তো খুব ভালো। আপনি জেনেশুনে খুব সরলতার ভান করতে থাকুন। অন্যরা ভাববে যে, তারা আপনাকে ঠকাচ্ছে। আসলে ঠকছে সে নিজে। এটা তো একটা বড় গুণ যে, কাউকে দেখে মনে হয় তাকে ঠকানো যায় কিন্তু আসলে সে তা নয় এবং সে অন্যদের এ অভিসন্ধিটা বুঝতেও পারে। আর এরকম ক্ষেত্রে তাকে কেউই ঠকাতে পারে না। উল্টো যে ঠকাতে চায় সে-ই ঠকে যায়।
প্রশ্ন : আমি একজন ব্যবসায়ী, দুইটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটাতে সর্বদা একটু সমস্যা লেগে থাকে। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানটি আকারে বড় অর্থাৎ বিনিয়োগ বেশি। আমি কী করতে পারি? দয়া করে জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর : বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আরো মনোযোগী হতে হবে। মনোযোগী হলেই সমস্যা সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। অর্থাৎ যেখানেই সমস্যা সেখানেই আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

  (625)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ সাহায্য/জিজ্ঞাসা

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon