সৌরজগতের সীমা পার হয়ে গেছে মহাকাশযান ভয়েজার। উৎক্ষেপণের ৩৬ বছর পর তা এখন সূর্যের সবগুলো গ্রহ পার হয়ে পৌছে গেছে মহাকাশের এক অজানা অন্ধকার জগতে। | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
তাহমিদ হাসান

মোট এলার্ম : 279 টি

তাহমিদ হাসান
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা,,, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,,, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,,, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া,,, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। !!!!!!!!! তাই টেকএলার্মবিডিতে এসেছি জানার জন্য।

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট : http://www.graphicalarm.com

» আমার ফেসবুক : www.facebook.com/tahmid.hasan3

» আমার টুইটার পাতা : www.twitter.com/tahmid1993


স্পন্সরড এলার্ম



সৌরজগতের সীমা পার হয়ে গেছে মহাকাশযান ভয়েজার। উৎক্ষেপণের ৩৬ বছর পর তা এখন সূর্যের সবগুলো গ্রহ পার হয়ে পৌছে গেছে মহাকাশের এক অজানা অন্ধকার জগতে।
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button
voyager

 

আজ থেকে ৩৬ বছর আগে, ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণ হয়েছিল মহাকাশযান ভয়েজারের। প্রথম পরিকল্পনা ছিল, ভয়েজার সৌরজগতের বাইরের দিকের গ্রহগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানেই তা থেমে থাকে নি – চলতেই থেকেছে সামনের দিকে। চলতে চলতে এখন ভয়েজার পৌছে গেছে পৃথিবী থেকে ১২শ কোটি মাইল দূরে, সূর্যের চারদিকে ঘুরতে থাকা গ্রহের সবগুলো ছাড়িয়ে।

এতই দূর যে ভয়েজার থেকে পাঠানো রেডিও সিগন্যালের পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে ১৭ ঘন্টা। এই প্রথম মানুষের তৈরি কোন বস্তু সৌরজগৎ পেরুতে পারলো।

সৌরজগতের বাইরের এই জগৎ হচ্ছে একটি তারা থেকে আরেকটি তারার মাঝথানের জগৎ – যাকে বলে ইন্টারস্টেলার স্পেস – ঠান্ডা, অন্ধকার এবং মানব অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বাইরের এক জগৎ।

ভয়েজার প্রজেক্টের একজন বিজ্ঞানী এড স্টোন বলছিলেন, এ এক ঐতিহাসিক ঘটনা, প্রথম পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা বা চাঁদে মানুষের পদার্পণের মতোই তাৎপর্যপূর্ণ।

voyager

“৪০ বছর আগে যখন ভয়েজারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন এটাই আমাদের আশা ছিল যে একদিন এই ইন্টারস্টেলার স্পেসে সেখানে আমরা পৌঁছাবো। কিন্তু আমরা কেউ জানতাম না – সূর্যের চারদিকে থাকা যে গ্যাসের বুদবুদের মধ্যে আমাদের সৌরজগৎ – তা কত বড়, এবং এই ভয়েজার মহাকাশযান তা অতিক্রম করার মতো দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে কিনা। যখন আমরা উপাত্ত পরীক্ষা করে প্রথম এটা বুঝতে পারলাম, তখন একটা আশ্চর্য অনুভুতি হয়েছিল – ৪০ বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া একটি মহাকাশযান সত্যি সেখানে পৌঁছেছে।”

আসলে ভয়েজার সৌরজগৎ পার হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ভয়েজারের সেন্সরগুলো থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে তার চারপাশের পরিবেশ বদলে গেছে। ভয়েজারের ভেতর বসানো একটি যন্ত্র থেকে আশপাশের চার্জসমৃদ্ধ বস্তুকণার ঘনত্ব মাপা যায়। গত বছরের নভেম্বর নাগাদ পাওয়া উপাত্ত থেকে দেখা গেল ভয়েজারের বাইরে প্রতি কিউবিক মিটারে প্রোটনের সংখ্যা হঠাৎ করে ১০০ গুণ বেড়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা আগেই হিসেব করেছিলেন যে সূর্যের প্রভাব-বলয়ের বাইরে গেলেই এরকম কিছু একটা ঘটবে।

তথন শুরু হলো হিসেব-নিকেশ এবং কয়েকদফা হিসেব করে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ২০১২ সালের ২৫শে আগস্টের দিকে ভয়েজার সৌরজগতের শেষ সীমা পার হয়েছে।

ভয়েজার প্রকল্পেরই আরেক বিজ্ঞানী গ্যারী স্টার্ক বলছেন, “এখন মহাকাশযানটি যেখানে আছে তা তারাদের মাঝখানে যে মহাজাগতিক শূন্যতা – সম্পূর্ণই অজানা এক জগৎ। এ এক অসাধারণ অর্জন, আমাদের সত্যি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে মানুষের মহাকাশ অভিযান শুরু হবার মাত্র ৫৫ বছরের মধ্যেই আমরা সৌরজগতের সীমারেখা পার হতে পেরেছি। সূর্য থেকে সৃষ্টি হওয়া পদার্থ দিয়ে তৈরি যে জগৎ – ভয়েজার এখন তার বাইরে। তার চারদিকে এখন যে সব বস্তুকণা – তা সূর্য থেকে সৃষ্ট নয়। এগুলো তৈরি হয়েছে আশপাশের অন্য তারা থেকে, সুপারনোভা অর্থাৎ বিস্ফোরিত তারার অবশিষ্টাংশ থেকে, বা অন্যান্য উৎস থেকে। সুতরাং আক্ষরিক অর্থেই ভয়েজার এখন একেবারেই অচেনা পরিবেশের মধ্যে পা রেখেছে।”

ভয়েজার এখন সৌরজগতের ওপার থেকে পৃথিবীতে পাঠাতে থাকবে ছবি আর বার্তা। তা অব্যাহত থাকবে যতদিন তার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা কাজ করে। তবে প্রায় দশ বছর পর তাও শেষ হয়ে যাবে।

golden recordভয়েজারের ‘গোল্ডেন রেকর্ড’

কিন্তু ভয়েজার তখনও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে, কিন্তু পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ আর হয়তো থাকবে না।

ভয়েজার বহন করছে এই পৃথিবীর মানুষ ও প্রকৃতির শব্দ, কথা, আর সঙ্গীত

এই ভয়েজারের মধ্যে রাখা আছে একটি সোনালী রেকর্ড, যাতে ধরা আছে মানব সভ্যতার নানা নিদর্শন আর প্রাণীজগতের নানা রকম শব্দ। যেমন মানুষের ছবি, কথা, পৃথিবীর নানা দেশের গান, যন্ত্রসঙ্গীত, যানবাহনের শব্দ, নানা রকম প্রাণীর ডাক, নানা রকম সাংকেতিক বার্তা ইত্যাদি। নানা রকম ভাষার নমুনা এতে আছে। আছে বাংলা ভাষাও।

উদ্দেশ্য হলো, সৌরজগতের বাইরে অন্য কোন কোথাও যদি প্রাণের অস্তিত্ব, বা বুদ্ধিমান প্রাণীর সভ্যতা থেকে থাকে, তারা যেন এটা থেকে এই পৃথিবীর মানুষ এবং পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।

যারা এই রেকর্ডটি তৈরি করেছিলেন তাদের একজন হলেন আমেরিকান বিজ্ঞান লেখক টিমোথি ফেরিস।

তিনি বলছেন, “আমরা প্রায় ১০/১২ জন লোক এই প্রকল্পে জড়িত ছিলাম, সায়েন্স ফিকশন লেখক কার্ল সাগানসহ । আমাদের পরিকল্পনা ছিল যে নানা রকম শব্দ দিয়ে পৃথিবীর একটি চিত্র তুলে ধরা। ধরুন, আমরা যদি অন্য কোন গ্রহ থেকে, অন্য কোন সভ্যতা থেকে একটা রেডিও সিগন্যাল পাই, – তা হলে আমরাও তো সেই অচেনা গ্রহ এবং তার অধিবাসীদের জীবন থেকে নানা শব্দ শুনতে চাইবো। তাই না? ঠিক এটাই আমরা করতে চেয়েছি। কথা ছিল যে এটাতে পৃথিবীর নানা দেশের সঙ্গীত থাকবে, যেন তা পৃধিবীর সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে । রেকর্ডটা এমনভাবে ভয়েজারের ভেতরে একটি বাক্সে রাখা আছে – যাতে কসমিক রশ্মিতে এর কোন ক্ষতি না হতে পারে।”

ব্রিটিশ বিজ্ঞান লেখক ক্রিস রাইলি বলছেন, এর তাৎপর্য শুধু সৌরজগত অতিক্রম করার মধ্যেই সীমিত নয়।

voyager

ক্রিস রাইলি বলছেন, “আমরা যে শুধু সূর্যের প্রভাব-বলয় পার হয়েছি তাই নয়। এটা তার চাইতেও বড় ব্যাপার। বহুকাল ধরেই আমরা আমাদের গ্যালাক্সিতে অন্য কোন বুদ্ধিমান প্রাণী বা সভ্যতা আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছি, কিন্তু নিশ্চিত কিছুই আমরা জানতে পারি নি। তেমন কেউ থেকে থাকলে হয়তো কোনদিন তারা ‌এই রেকর্ডটা শুনতে সক্ষম হবে। এটা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে তা অন্তত ১০০ কোটি বছর টিকে থাকতে পারে। এমনও হতে পারে যে এটা হয়তো মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গেলে বা এমনকি পৃথিবী কোন কারণে ধ্বংস হয়ে যাবার পরও টিকে থাকবে। তখন হয়তো এই রেকর্ডটাই একমাত্র প্রমাণ হয়ে থাকবে

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

(998)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ সৌর জগৎ

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > > > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon