রাসূলের গোলাম বলা যাবে কিনা? কুরআন ও হাদীস কী বলে এক্ষেত্রে? | টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ
Profile
তাহমিদ হাসান

মোট এলার্ম : 299 টি

তাহমিদ হাসান
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা,,, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,,, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,,, ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া,,, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। !!!!!!!!! তাই টেকএলার্মবিডিতে এসেছি জানার জন্য।

আমার এলার্ম পাতা »

» আমার ওয়েবসাইট : http://www.graphicalarm.com

» আমার ফেসবুক : www.facebook.com/tahmid.hasan3

» আমার টুইটার পাতা : www.twitter.com/tahmid1993


স্পন্সরড এলার্ম



রাসূলের গোলাম বলা যাবে কিনা? কুরআন ও হাদীস কী বলে এক্ষেত্রে?
FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন
Share Button
আমাদের দেশে অনেকেই আকাক্ষা করেন যেন সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম হতে পারে বা তাকে যেন আল্লাহ তায়ালা নবীজির গোলাম হিসেবে কবুল করে নেয়। গত পরশু দিন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহুর একটা ঘটনা পোস্ট করার পরে মূলত বিষয়টা সামনে চলে আসে। ওই ঘটনার রেফারেন্স এখনও পাইনি। কিন্তু সেখানে যে প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে যে, গোলামে রাসূল বলা যাবে কিনা? এটা বললে অনেকে বলেছেন যে, শিরক হবে ইত্যাদী ইত্যাদী।
শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে, এই বিষয়টা কোন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত বা মুস্তাহাব কোন বিষয় নয় যে, এটা বলতেই হবে বা না বললে কোন সমস্যা হবে। বরং এটা হুব্বে রাসূলের সাথে সম্পর্কিত। যারাই বলে যে, সে যেন গোলামে রাসূল হতে পারে। তারা অত্যন্ত আবেগ এবং ভক্তি শ্রদ্ধা নিয়েই কথাটা বলে থাকে। আর প্রশ্নটা এখানেই চলে আসে যে, এই ধরনের আবেগ বা ভক্তি শ্রদ্ধা মূলক কথা বললে ঈমান হারা হবে নাতো???
অনেকে বলেছেন যে, মানুষ একমাত্র আল্লাহর গোলাম, অন্য কারো বললেই শিরক হবে। তাই আমরা শুরুতেই একটি হাদীস দেখি। যেখানে অন্য কাউকে তার গোলাম বলা যাবে মর্মে বোঝা যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এমন কথা না বলে ‘‘তোমার প্রভুকে আহার করাও’’ ‘‘তোমার প্রভুকে অযু করাও’’ ‘‘তোমার প্রভুকে পান করাও’’ আর যেন (দাস ও বাঁদীরা) এরূপ বলে, ‘‘আমার মনিব’’ ‘আমার অভিভাবক’, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে ‘‘আমার দাস, আমার দাসী’’। বরং বলবে- ‘আমার বালক’ ‘আমার বালিকা’ ‘আমার গোলাম’। (সহীহ বুখারী; হাদীস নং: ২৫৫২)
অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই শিখিয়ে দিচ্ছেন যে, দাস দাসীকে কেউ যেন, আমার দাস বা আমার দাসী না বলে। বরং বলবে, আমার বালক, আমার বালিকা এবং আমার গোলাম।
এই হাদীস থেকে এটা স্পষ্ট যে, কোন মানুষ তার দাস অথবা দাসীকে তার গোলাম বলতে পারবে বা আমার গোলাম বলে সম্বোধন করতে হবে। হাদীস আরবী শব্দ: غلامى এসেছে। যার অর্থ আমার গোলাম।
এবার দেখা যাক যে, নবীর গোলাম বলতে পারবে কিনা? প্রশ্ন এসেই যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদে বলেছেন:
قل يا عبادي الذين اسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا من رحمة الله الخ
অর্থাৎ “(হে রাসূল) আপনি বলুন, হে আমার গোলামেরা তোমরা যারা নিজেদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছ, আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না। (সূরা যুমার: ৫৩)
দেখা যাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তার উম্মতদেরকে গোলাম বলে সম্বোধন করে কথা বলতে বলেছেন। এ আয়াতের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, আপনি আমি সকলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম।
এখন প্রশ্ন এসে যায় যে, সাহাবীরা কি কাউকে তাদের গোলাম হিসেবে সম্বোধন করেছেন বা সাহাবীদের আমল কি ছিল?
সংক্ষেপে বললে সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহ সিহাহ সিত্তাহর মধ্যে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। জ্বি ঠিক শুনেছেন অসংখ্য হাদীস রয়েছে যেখানে সাহাবায়ে কেরামগণ তাদের দাস দাসীকে “আমার গোলাম” বলে সম্বোধন করেছেন।
অনেকেই এখন প্রশ্ন করবেন। দাস-দাসীকে গোলাম বলেছে মানলাম কিন্তু আমরা তো দাস দাসী নয়। আমরা তো স্বাধীন, আমরা কি গোলাম হব নাকি? তাছাড়া সাহাবীগণ দাস দাসীকে গোলাম বলেছে কিন্তু স্বাধীন সাহাবিরা কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম বলে নিজেকে সম্বোধন করেছেন কিনা? কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসের আমল সবচেয়ে বেশি করেছেন সাহাবায়ে কেরামগণ।
হ্যা। আমার যে সকল ভাইদের মনের মধ্যে এমন জ্ঞানসুলভ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তাদের জন্য নিচের সহীহ হাদীসটি উল্লেখ করলাম:
حدثنا أبو جعفر محمد بن صالح بن هانئ ، ثنا أبو سهل بشر بن سهل ، ثنا أبو صالح عبد الله بن صالح ، حدثني يحيى بن أيوب ، عن عبد الرحمن بن حرملة الأسلمي ، عن سعيد بن المسيب ، قال : لما ولي عمر بن الخطاب رضي الله عنه خطب الناس على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله وأثنى عليه ، ثم قال : ” أيها الناس ، إني قد علمت منكم أنكم تؤنسون مني شدة وغلظة ، وذلك أني كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فكنت عبده وخادمه ، وكان كما قال الله بالمؤمنين رءوفا رحيما ، فكنت بين يديه كالسيف المسلول إلا أن يغمدني ، أو ينهاني عن أمر ، فأكف وإلا أقدمت على الناس لمكان لينه ” هذا حديث صحيح الإسناد
যখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা নিযুক্ত হলেন তখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিম্বরে বসে খুৎবা দিলেন। প্রথমেই তিনি আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুণকির্তন করলেন। এরপর বললেন
“ হে মানুষের আমি জানি যে, তোমরা আমাকে কঠিন হৃদয়ের অধিকারী এবং রূঢ় বলেই জান। এর কারণ হচ্ছে, আমি সর্বদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আর আমি ছিলাম তার !
“গোলাম” এবং খাদেম। আর আল্লাহ তায়ালা যেমনিভাবে বলেছেন তেমনিভাবেই তিনি (নবীজি) মুমিনদের প্রতি পরম দয়াদ্র ও পরম করুনাময় ছিলেন। আর আমি তার সামনে ছিলাম একটি কোষমুক্ত তরবারীর মত। যতক্ষণ না তিনি আমাকে কোষবদ্ধ করে দেন অথবা কোন কাজ থেকে নিষেধ করেন। তিনি নিষেধ করলেই আমি থেমে যেতাম। নয়তো যেখানে তিনি মানুষের সাথে নম্র আচরণ করতেন আমি সেখানে নিজেকে উপস্থাপন করতাম (যদি কঠোর হওয়ার দরকার হতো) । রাবী বলেছেন, এই হাদীসের সনদ সহীহ।
(আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন; কিতাবুল ইলম; পরিচ্ছেদ: খুতবাতু ওমর ইবনুল খাত্তাব হাদীস নং: ৪৪৫)
প্রিয় পাঠক! আমিরুল মু’মিনীন নিজেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আবদ্ তথা গোলাম বলেছেন। সেখানে আপনি আর আমি যদি আকাক্ষা করি যে, আল্লাহ যেন আমাদের কবুল করে তার গোলাম হিসেবে। সেটা দোষের কিছু নয়।
বরং পবিত্র কুরআনের আয়াত অনুযায়ী আমরা সকলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম। যেটা স্বয়ং রাব্বুল আলামীন শিক্ষা দিয়েছেন তার হাবীবকে।
এছাড়াও বাংলা ভাষার অনন্য সীরাত গ্রন্থ “বিশ্বনবী”। যা আমাদের দেশের সর্ব মহলের আলেমের নিকট সমাদৃত। এই সীরাত গ্রন্থের লেখকের নাম হচ্ছে “গোলাম মোস্তফা”। যা আমাদের দেশে বহু মানুষের নামও বটে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম হিসেবে কবুল করুক।

(704)

Share Button
  

FavoriteLoadingপ্রিয় যুক্ত করুন

এলার্ম বিভাগঃ সূফীজম ও ইলমে মারেফাত

এলার্ম ট্যাগ সমূহঃ > >

Ads by Techalarm tAds

এলার্মেন্ট করুন

You must be Logged in to post comment.

© টেকএলার্মবিডি।সবচেয়ে বড় বাংলা টিউটোরিয়াল এবং ব্লগ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

জেগে উঠো প্রযুক্তি ডাকছে হাতছানি দিয়ে!!!


Facebook Icon